<?xml version="1.0" encoding="utf-8"?><rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom">
	<channel>
		<atom:link href="http://elearninginfo.in/blog/x5feed.php" rel="self" type="application/rss+xml" />
		<title><![CDATA[Elearning Info]]></title>
		<link>http://elearninginfo.in/blog/</link>
		<description><![CDATA[E-Learning Bengali]]></description>
		<language>EN</language>
		<lastBuildDate>Thu, 03 Jun 2021 14:22:00 +0000</lastBuildDate>
		<generator>Incomedia WebSite X5 Pro</generator>
		<item>
			<title><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশচন্দ্র]]></title>
			<author><![CDATA[ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%93_%E0%A6%9C%E0%A6%97%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B6%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0"><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশচন্দ্র]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_000000013"><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশচন্দ্র</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ (৭.৫.১৮৬১-৭.৮.১৯৪১) ও জগদীশচন্দ্র (৩০.১১.১৮৫৮-২৩.১১.১৯৩৭), একজন সেরা কবি ও আরেকজন সেরা বিজ্ঞানী | দু’জনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ২ বছর ৫ মাস ৭ দিন, কিন্তু, উভয়ের মধ্যে ছিল, প্রগাঢ় বন্ধুত্ব | প্রথমের দিকে উভয়ে উভয়কে ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতেন, পরে তা ‘তুমি’-তে পরিণত হয় | জগদীশচন্দ্রের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘আমার জীবনের প্রথম বন্ধুত্ব জগদীশের সঙ্গে | আমার চিরাভ্যস্ত কোণ থেকে তিনি আমাকে টেনে বের করেছিলেন যেমন করে শরতের স্নিগ্ধ সূর্যোদয়ের মহিমা চিরদিন আমাকে শোবার ঘর থেকে ছুটিয়ে বাইরে এনেছে |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(রবীন্দ্র রচনাবলী / অষ্টাদশ খণ্ড/ বিশ্বভারতী)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের স্কুল বিভাগে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন, তখন জগদীশচন্দ্র বসু ওখানে এন্ট্রান্স ক্লাসের ছাত্র | এই কলেজ, ইংরেজ জেসুইটদের দ্বারা স্থাপিত (১৮৩৫) | ১৮৬২-তে কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে | ভারতবর্ষে বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ ফাদার ইউজিন লাঁফো </span><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">(Eugene Lafont / 26 March, 1837-10 May, 1908) ১</span><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">০ অক্টোবর, ১৮৭১ তারিখ থেকে ওই কলেজের রেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন | ১৮৭৫ সালের ১১ মার্চ কবি-জননী সারদা দেবীর মৃত্যু হয় | ১৮৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কলেজে অনুষ্ঠিত এন্ট্রান্স পরীক্ষায় জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন | তখনো রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি | ১৮৯১ সালে (১২৯৮) জগদীশচন্দ্র প্রেসিডেন্সি কলেজে ফনোগ্রাফ যন্ত্রে রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্মসংগীত রেকর্ড করলেও উভয়ের সম্পর্ক হতে শুরু করে ১৮৯৭ সাল থেকে (১৩০৪) | এই ঘনিষ্ঠতার সূচনা প্রসঙ্গে জগদীশচন্দ্রের জীবনীকার</span><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2"> Patrick Geddes (1854-1932) লিখেছেনঃ </span><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">‘On the occasion of Bose’s return (Apr, 1897) from his successful visit to Europe in 1896, Tagore called to congratulate him and, not finding him at home, left on his work-table a great blossom of magnolia, as a fitting and characteristic message of regard. Since that time the two have been increasingly together, each complementing and thereby widening and deepening the other’s characteristic outlook on nature and life.’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">(The Life and Work of Sir Jagadis C. Bose by Patrick Geddes / Longmans, Green, and Co. / 1920)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জগদীশচন্দ্র ২ নভেম্বর, ১৯০০ (১৭ কার্তিক, ১৩০৭) লন্ডন থেকে রবীন্দ্রনাথকে লেখা একটি চিঠিতে তা স্বীকার করেছেন:</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘তিন বৎসর পূর্ব্বে আমি তোমার নিকট একপ্রকার অপরিচিত ছিলাম | তুমি স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া ডাকিলে | তারপর একটি একটি করিয়া তোমাদের অনেকের স্নেহবন্ধনে আবদ্ধ হইলাম | তোমাদের উৎসাহধ্বনিতে মাতৃস্বর শুনিলাম |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(প্রবাসী)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৩০৪ বঙ্গাব্দের ৪ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ‘অধ্যাপক জগদীশচন্দ্র বসুর প্রতি’ এই শিরোনামে একটি কবিতা রচনা করেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বিজ্ঞান-লক্ষ্মীর প্রিয় পশ্চিমমন্দিরে</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">দূর সিন্ধুতীরে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">হে বন্ধু, গিয়েছ তুমি; জয়মাল্যখানি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সেথা হতে আনি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">দীনহীনা জননীর লজ্জানত-শিরে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">পরায়েছ ধীরে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বিদেশের মহোজ্জ্বল মহিমা-মণ্ডিত</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">পণ্ডিত-সভায়</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বহু সাধুবাদধ্বনি নানা কণ্ঠরবে</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শুনেছ গৌরবে!</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সে ধ্বনি গভীর মন্দ্রে ছায় চারিধার</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">হ’য়ে সিন্ধুপার |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">আজি মাতা পাঠাইছে—অশ্রুসিক্ত বাণী</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">আশীৰ্বাদখানি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জগৎ-সভার কাছে অখ্যাত অজ্ঞাত</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">কবিকণ্ঠে, ভ্রাতঃ!</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সে বাণী পশিবে শুধু তোমারি অন্তরে</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ক্ষীণ মাতৃস্বরে!</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(চিঠিপত্র / ষষ্ঠ খণ্ড / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / ৪ঠা শ্রাবণ ১৩০৪ (19 July, 1897))</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ঊনবিংশ শতকের শেষ দশক | বাংলার নবজাগরণে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এসেছে নবজোয়ার | স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাবে তৈরি হয়েছে, ‘ডাকাতের দল’ | ডাকাত দলের মতো আগে থেকেই চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হত, ‘আজ তোমার বাড়িতে ডাকাতি করা হবে |’ এই ডাকাতির অর্থ কিন্তু আলাদা, যাকে উদ্দেশ্য করে চিঠি দেওয়া হল, আসলে, তার বাড়িতে সেই রাতে বসবে সাহিত্য-আসর, সঙ্গে, আড্ডা ও খাওয়া-দাওয়া | ১৮৯৭ সালে ‘ডাকাতের দল’ বিলুপ্ত হয়ে নামকরণ হয় ‘খামখেয়ালী সভা’ | ‘খামখেয়ালী সভা’-র উদ্যোগে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক আড্ডা বসত বিভিন্ন জনের বাড়িতে | কখনো ‘প্রবাসী’ সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে, কখনো চিত্তরঞ্জন দাশের রসা রোডের বাড়িতে, কখনো জগদীশচন্দ্র বসুর বাড়িতে, কখনো জোড়াসাঁকোর ‘মহর্ষি ভবন’-এ | এই আড্ডায় যোগ দিতেন সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের দিকপাল মানুষেরা | &nbsp;</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">যাঁরা রবীন্দ্রনাথের ‘ডাকাতের দল’ কিংবা ‘খামখেয়ালী সভা’য় অংশগ্রহণ করতেন, তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১), প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬), শরৎচন্দ্র চট্টোপাধায় (১৮৭৬-১৯৩৮), দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩), চিত্তরঞ্জন দাশ (১৮৭০-১৯২৫), জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭), অবলা বসু (১৮৬৪-১৯৫১), ভগিনী নিবেদিতা (১৮৬৭-১৯১১), রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় (১৮৬৫-১৯৪৩) ও তাঁর দুই কন্যা শান্তা দেবী ও সীতা দেবী, সরলা দেবী চৌধুরানী (১৮৭২-১৯৪৫), ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী (১৮৭৩-১৯৬০), সাহানা দেবী (১৮৯৭-১৯৯০), অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪), কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬), অমলা দাশ (১৮৮০-১৯২২), &nbsp;অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১-১৯৫১), গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬৭-১৯৩৮), উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫), দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৪৪-১৮৯৮), কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৬১-১৯২৩), জ্যোতির্ময়ী গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৮৯-১৯৪৫), ঊর্মিলা দেবী (১৮৮৩-১৯৫৬), বাসন্তী দেবী (১৮৮০-১৯৭৪), সরলা দাশ প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘খামখেয়ালী সভা’-র আড্ডায় সাহিত্য-পাঠ, সংগীত পরিবেশন, বিবিধ বিষয়ের আলোচনা ছাড়াও রাগসঙ্গীতের মত উচ্চমার্গের গানও হত | আড্ডার পর হত বিবিধ ব্যঞ্জন সহযোগে আহার | ১৮৯৮ সালের ৩ অগাস্ট কবি সপরিবারে শিলাইদহে চলে যান জমিদারি দেখাশোনা করতে আবার জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৪৯-১৯২৫) উদ্যোগে ‘ভারতীয় সঙ্গীত সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হলে ‘খামখেয়ালি সভা’-র বিলুপ্তি ঘটে | যদিও শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বা বহমান পদ্মায় নৌকায় চেপে এই আড্ডার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন, রবীন্দ্রনাথ | সাথে, সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭) অবলা বসু (১৮৬৪-১৯৫১) ও ভগিনী নিবেদিতা (১৮৬৭-১৯১১) প্রভৃতি দের | কখনো কখনো ভগিনী ক্রিস্টিনকেও ডাকা হতো শাহজাদপুরে | ভগিনী ক্রিস্টিন অথবা ক্রিস্টিনা গ্রীন্সটাইডেল (১৮৬৬—১৯৩০) ছিলেন একজন শিক্ষিকা, সমাজসেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের অন্যতমা শিষ্যা | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ সালে ক্রিস্টিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা প্রথম শোনেন যা তাঁকে বিশেষ রূপে প্রভাবিত করে | অতঃপর স্বামী বিবেকানন্দ তাঁকে ব্রহ্মচর্যে দীক্ষা প্রদান করেন | ১৯০২ সালে স্বামী বিবেকানন্দের (১৮৬৩-১৯০২) প্রয়াণের আব্যবহিত পূর্বে তিনি ভারতবর্ষে আগমন করেন | ১৯১১ সালে ভগিনী নিবেদিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর নারী-শিক্ষা বিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন | দীর্ঘ দিন ভারতে বসবাস করার পর তিনি ১৯১৪ সালে আমেরিকা ফিরে যান |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">দ্বারকানাথ (১৮৪৪-১৮৯৮)-কাদম্বিনীর (১৮৬১-১৯২৩) ৬ নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়ির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে গান শেখাতে আসতেন | শুনে শুনে সেই সব গান রপ্ত করে নিতেন বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা | সেখানে যেসব যুবকেরা গান শিখতে আসতেন তাঁদের মধ্যে নরেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ, তিনিও ছিলেন | বেহালা হাতে অংশগ্রহণ করতেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সেই সময় দুই বিখ্যাত পরিবারঃ ‘রায়-পরিবার’ ও ‘গাঙ্গুলী-পরিবার’ এদের মধ্যে গড়ে ওঠা সখ্যতা, শেষে আত্মীয়তার বন্ধন রচনা করে | গভীর প্রেমে বাঁধা পড়েন উপেন্দ্রকিশোর, দ্বারকনাথের কন্যা বিধুমুখীর সঙ্গে | আবার, রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নি সরলাদেবীর সঙ্গে দ্বারকানাথের স্ত্রী কাদম্বিনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জাতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক কাজকর্মে ও নারী-কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে এই দুই মহিলা অংশগ্রহণ করতেন | প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথের বোন স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৬-১৯৩২) ও কাদম্বিনী বসু (১৮৬১-১৯২৩) জাতীয় কংগ্রেসের সর্বপ্রথম দুই নারী সদস্য | কাদম্বিনী জাতীয় কংগ্রেসের একটি অধিবেশনে ইংরেজিতে প্রাঞ্জল বক্তৃতা দিয়ে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন | দ্বারকানাথ ও কাদম্বিনীর কন্যা জ্যোতির্ময়ী গঙ্গোপাধ্যায়ও (১৮৮৯-১৯৪৫) স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শিলাইদহে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ জগদীশচন্দ্রকে পল্লীভবনে আমন্ত্রণ জানান ও জগদীশচন্দ্র ১৩০৬ বঙ্গাব্দের চৈত্রের শেষে শিলাইদহে যান ও ফেরার সময় কৌতূহল-বশতঃ কয়েকটি রেশম-গুটি কলকাতায় নিয়ে আসেন | ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ জগদীশচন্দ্র রবীন্দ্রনাথকে লেখেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘প্রজাপতিগুলি এখনও জন্মগ্রহণ করে নাই | গত শনিবার হইতে প্রত্যহ গুটিগুলিকে নাড়িয়া দেখিতেছি, ভিতরে যেন পূর্ণতর হইয়া আসিতেছে | আশঙ্কা হয় এত ঘন ঘন কম্পনে কীটের প্রাণবায়ু হয়ত বাহির হইয়া গিয়াছে | তাহা হইলেও একরূপ নিশ্চিন্ত হইতাম, কারণ যে এরণ্ড বৃক্ষের কথা বলিয়াছিলাম তাহার পাতাগুলি একেবারে নিঃশেষিত হইয়া গিয়াছে | সুতরাং এই দুর্ভিক্ষের সময় সহসা প্রজাবৃদ্ধি মনে করিয়া ভীত আছি | বিশেষতঃ লরেন্স সাহেবের নিকট আমি কি করিয়া মুখ দেখাইব জানি না |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৮৯৯ সালের ২৪মার্চ রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরা রওনা হন | ত্রিপুরার রাজা রাধাকিশোর মাণিক্যের আমন্ত্রণে তাঁর ত্রিপুরা যাত্রা | রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে রাজা রাধাকিশোর মানিক্য ও জগদীশচন্দ্রের সঙ্গে হার্দিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে | এই সূত্রেই রাধাকিশোর মানিক্য, জগদীশচন্দ্রের বিজ্ঞান সাধনায় অকৃপণ অর্থসাহায্যও করেছেন | ত্রিপুরার যুবরাজ বীরেন্দ্রকিশোর-এর বিবাহ হয় ২৪ ফাল্গুন ১৩০৬ (১৯০০ সালের ৭ মার্চ) | এই বিবাহে রাধাকিশোর মানিক্য রবীন্দ্রনাথ সহ জগদীশচন্দ্র বসু-কে আমন্ত্রণ জানান | তিনি লেখেন: </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যাঁহাদের পাইলে এ শুভ ব্যাপার আনন্দে সম্পন্ন হয় তাঁহাদের কয়েকজনকে পাইলেই সুখী হইতে পারি | তাই আপনি, জ্যোতিবাবু, গগনবাবু, আশুবাবু (আশুতোষ চৌধুরী) ও যদি সুবিধা থাকে জগদীশবাবুকে এখানে দেখিতে ইচ্ছা করি | জগদীশবাবুর বিজ্ঞানশালা নির্ম্মাণ সম্বন্ধে আমার স্মরণ আছে | ভরসা করি উপরি উক্ত শুভ ব্যাপারে আপনি ত নিশ্চয়ই আসিবেন; সেই সময় আলাপ করিয়া যাহা সাব্যস্ত হয় সেরূপ করিতে প্রস্তুত রহিলাম |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(রবীন্দ্রনাথ ও ত্রিপুরা / গোবিন্দনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও হিমাংশুনাথ গঙ্গোপাধ্যায় / ত্রিপুরা আঞ্চলিক রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিকী সমিতি / আগরতলা / আশ্বিণ, ১৩৬৮) </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথের পুত্র-কন্যাদের সঙ্গেও জগদীশচন্দ্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল | তাঁর লেখা ‘পিতৃস্মৃতি’ গ্রন্থে রবীন্দ্র-পুত্র রথীন্দ্রনাথ লিখেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘আমার সঙ্গে তিনি গল্প করতেন, নানারকম খেলা শেখাতেন— ছোটো বলে উপেক্ষা করতেন না | আমি তাঁর স্নেহপাত্র হতে পেরেছি বলে আমার খুব অহংকার বোধ হত | আমি মনে মনে কল্পনা করতুম বড়ো হলে জগদীশচন্দ্রের মতো বিজ্ঞানী হব | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বর্ষার পর নদীর জল নেমে গেলে বালির চরের উপর কচ্ছপ উঠে ডিম পাড়ত | জগদীশচন্দ্র কচ্ছপের ডিম খেতে ভালোবাসতেন | আমাকে শিখিয়ে দিলেন কি করে ডিম খুঁজে বের করা যায় |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(পিতৃস্মৃতি / রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর / জিজ্ঞাসা, কলকাতা / ১৩৬৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">৬ বছরের মীরা দেবীর সঙ্গেও জগদীশচন্দ্রের প্রীতির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল | জগদীশচন্দ্র তাঁর অনেক চিঠিতে মীরা দেবীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন | রথীন্দ্রনাথ, তাঁর পিতা রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশচন্দ্রের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘একজন বিজ্ঞানী, অন্যজন কবি— এঁদের মধ্যে যে আকর্ষণ ছিল সে কেবল বন্ধুত্ব বললে সম্পূর্ণ বলা হয় না | পরস্পরের মধ্যে একটি গভীর অন্তরঙ্গ সম্বন্ধ ছিল | কথাবার্তা গল্প করার মধ্যে ভাব-বিনিময়ের চেষ্টা যেন সর্বদাই চলত | নতুন গল্পের প্লট বা যে প্রবন্ধ লিখছেন তার বিষয়বস্তু নিয়ে বাবা আলোচনা করতেন | জগদীশচন্দ্র তাঁর উদ্ভাবিত নতুন যন্ত্রের কথা বলতেন, নতুবা বলতেন জড় ও জীবের মধ্যে কি সব অদ্ভুত মিল তিনি সেই যন্ত্রের সাহায্যে আবিষ্কার করেছেন | দুজনের চিন্তাধারা সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চললেও তাঁরা যেন যথেষ্ট খোরাক পেতেন পরস্পরের কথাবার্তা আলোচনা থেকে |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(পিতৃস্মৃতি / রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর / জিজ্ঞাসা, কলকাতা / ১৩৬৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে জগদীশচন্দ্রের পত্রবিনিময় হতো প্রায়ই সময় | ১০ মে, ১৯০১ লন্ডনের Royal Institution-এ জগদীশচন্দ্র ‘The Response of Inorganic Matter to Mechanical and Electric Stimulus’ বিষয়ে যে বক্তৃতা করেন ও তার ফলে বৈজ্ঞানিক মহলে যে আলোড়ন উপস্থিত হয় আর সেই কারণে ১৭ মে জগদীশচন্দ্র ও তাঁর পত্নী অবলা বসু যে দুটি পত্র রবীন্দ্রনাথকে লেখেন তার উত্তরে ১৯০১ সালের ৪ জুন (২১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৮) রবীন্দ্রনাথ লেখেন: </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বন্ধু,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ধন্যোহং কৃতকৃত্যোহং! তোমাদের চিঠি পাইয়া আমি প্রাতঃকাল হইতে নূতন লোকে বিচরণ করিতেছি | যে ঈশ্বর তোমার দ্বারা ভারতের লজ্জা নিবারণ করিয়াছেন আমি তাঁহার চরণে আমার হৃদয়কে অবনত করিয়া রাখিয়াছি | কোন্ দিক্ দিয়া তিনি আমাদের দেশকে গৌরবান্বিত করিবেন অদ্য আমি তাহার অরুণাভামণ্ডিত পথ দেখিতেছি | তোমার নিকট পূজা প্রেরণ করিবার জন্য আমার অন্তঃকরণ উন্মুখ হইয়া আছে—বন্ধু, আমার পূজা গ্রহণ কর! তোমার জয় হউক্ | তোমাতে আমাদের দেশ জয়ী হউক্! নব্য ভারতের প্রথম ঋষিরূপে জ্ঞানের আলোকশিখায় নূতন হোমাগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমাকে বারম্বার মিনতি করিতেছি—অসময়ে ভারতবর্ষে আসিবার চেষ্টা করিও না | তুমি তোমার তপস্যা শেষ কর—দৈত্যের সহিত লড়াই করিয়া অশোকবন হইতে সীতা-উদ্ধার তুমিই করিবে, আমি যদি কিঞ্চিৎ টাকা আহরণ করিয়া সেতু বাঁধিয়া দিতে পারি তবে আমিও ফাঁকি দিয়া স্বদেশের কৃতজ্ঞতা অর্জ্জন করিব |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বেলার বিবাহের আর ১০/১১ দিন বাকি আছে | তোমার জয়সংবাদে আমার সেই উৎসব দ্বিগুণতর উৎসবময় হইয়া উঠিয়াছে | আমার সভার মধ্যে তুমি তোমার অদৃশ্য কিরণের আলোক জ্বালিয়া দিয়াছ | অনেক ঝঞ্ঝাটের মধ্যে পড়িয়াছিলাম—আমি সমস্তই ভুলিয়া গিয়াছি | আমার একান্ত দুঃখ রহিল তোমার জয়ক্ষেত্রে আমি উপস্থিত থাকিতে এবং তোমার জয়লাভের পরে তোমার হস্তস্পর্শ করিতে পারিলাম না |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমার ক্ষুদ্র বন্ধু মীরাকে তোমার জয়সংবাদ দিলাম, সে কিছুই বুঝিল না | যখন বুঝিবার বয়স হইবে তখন স্মরণ করিয়া খুসী হইবে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এইবার বিবাহের আয়োজনে মন দেইগে | &nbsp;ইতি—</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">২১শে জ্যৈষ্ঠ | (১৩০৮)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমার</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শ্রীরবীন্দ্রনাথ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(চিঠিপত্র / ষষ্ঠ খণ্ড / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বিশ্বভারতী / ১৯৫৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্র কন্যা বেলা-র বিবাহে জগদীশচন্দ্র উপস্থিত থাকতে পারেননি, কিন্তু, বেলার জন্য উপহার হিসেবে ‘Joan of Arc’ (1412-1431) এর জীবনীগ্রন্থ পাঠিয়ে দেন | &nbsp;রবীন্দ্রনাথ লেখেন:</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘বন্ধু,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">আমার কন্যার প্রতি তোমার আশীর্ব্বাদসহ সুন্দর উপহারখানি পাইয়া আনন্দলাভ করিলাম | তোমার হস্তাক্ষরসহ এই গ্রন্থখানি বেলা উপযুক্ত আদর করিয়া পড়িবে ও রাখিবে সন্দেহ নাই | আমার জামাতাটি মনের মত হইয়াছে | সাধারণ বাঙালির ছেলের মত নয় | ঋজুস্বভাব, বিনয়ী অথচ দৃঢ়চরিত্র, পড়াশুনা ও বুদ্ধিচর্চ্চায় অসামান্যতা আছে—আর একটি মহদ্‌গুণ এই দেখিলাম, বেলাকে তাহার ভাল লাগিয়াছে | এইবার শিলাইদহ হইতে ফিরিয়া গিয়া বেলাকে মজঃফরপুরে তাহার স্বামীগৃহে পৌঁছাইয়া দিয়া আসিতে হইবে |...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমার</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শ্রীরবীন্দ্রনাথ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(চিঠিপত্র / ষষ্ঠ খণ্ড / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বিশ্বভারতী / ১৯৫৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৮৯৮ সালে (১৩০৪) ভগিনী নিবেদিতা ভারতে পদার্পণ করে নানান সামাজিক কর্মসূচির সাথে যুক্ত হওয়া সহ আর যে কাজ করেছিলেন তা হল ব্রাহ্ম পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও ব্রাহ্ম সমাজে নিয়মিত যাতায়াত করা | এই সুবাদে জগদীশচন্দ্র বসুর পরিবারের সাথেও নিবেদিতার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয় | জগদীশচন্দ্রের বিজ্ঞান প্রতিভায় তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন | সময় পেলেই তিনি জগদীশচন্দ্রের বাসভবনে চলে যেতেন ও সেখানে সান্ধ্য-আড্ডায় ও সান্ধ্য-ভোজনে অংশ নিতেন | লন্ডনে অবস্থানকালে জগদীশচন্দ্র অসুস্থ হয়ে পড়েন | ১২ ডিসেম্বর, ১৯০০ (২৭ পৌষ, ১৩০৭) লন্ডনে জগদীশচন্দ্রের পেটে অস্ত্রোপচার করতে হয় | আর সেই সময় অসুস্থ জগদীশচন্দ্রকে নিজের হাতে সেবা-শুশ্রূষা করেছেন নিবেদিতা |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">অস্ত্রোপচারের পর স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য জগদীশচন্দ্রকে নিবেদিতা তাঁর মায়ের বাড়ি উইম্বল্‌ডনে &nbsp;নিয়ে গেছেন | সেখানে মায়ের খাওয়ার ঘরকে বিজ্ঞানাগার বানিয়ে জগদীশচন্দ্র যাতে তাঁর গবেষণা চালিয়ে যেতে পারেন তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন | জগদীশচন্দ্রের অনুরোধে নিবেদিতা রবীন্দ্রনাথের ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্প ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ১৯০০ সালের নভেম্বর মাসে, যেটি ‘The Modern Review’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে | ‘ম্যাক্‌মিলন’ প্রকাশিত ‘The Hungry Stones and Other Stories’ সংকলনে ১৯১৬ সালে এই অনুবাদ সংকলিত | ‘কাবুলিওয়ালা’ ছাড়াও নিবেদিতা রবীন্দ্রনাথের আরো দু’টি গল্পের ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন ‘ছুটি’ ও ‘দান প্রতিদান’ |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯০১ খ্রীষ্টাব্দের ১৫ জুন রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠা কন্যা মাধুরীলতার (১৮৮৬-১৯১৮) সহিত বিবাহ হয় কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর (১৮৩৫-১৮৯৪) পুত্র শরৎচন্দ্রের সহিত | বিবাহের ব্যবস্থা করেন প্রিয়নাথ সেন (১৮৫৪-১৯১৬) | ১৫ জুলাই মাধুরীলতাকে স্বামীগৃহে স্থিত করার জন্য মজঃফরপুর গমন করেন | ১ শ্রাবণ কবিকে স্থানীয় বাঙালীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন ও মানপত্র প্রদান করা হয় | ২২ জুলাইয়ের পূর্বে কবে শান্তিনিকেতনে প্রত্যাবর্তন করেন | এই সময় শান্তিনিকেতনে ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ প্রতিষ্ঠার কথা কবি ভাবতে শুরু করেন | বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভাবনা প্রথমে পত্রযোগে জানালেন বন্ধু জগদীশচন্দ্রকে | ২৫ জুলাই ১৯০১ তিনি জগদীশচন্দ্রকে লেখেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বন্ধু,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমার কৰ্ম্ম কেন সম্পূর্ণ সফল না হইবে? বাধা যতই গুরুতর হউক তুমি যে-ভার গ্রহণ করিয়াছ তাহা সমাধা না করিয়া তোমার নিষ্কৃতি নাই; সেজন্য যে কোন প্রকার ত্যাগ স্বীকার প্রয়োজন তাহা তোমাকে করিতে হইবে | একথা তোমাকে ছাড়া আর কাহাকেও অসঙ্কোচে বলিতে পারিতাম না | বলিতে পারিতাম না যে, দারিদ্র্য, অর্থসঙ্কট, সাংসারিক অবনতি গ্রহণ কর | আমি নিজে হইলে হয়ত পারিতাম না—কিন্তু তোমাকে আমি নিজের চেয়ে বড় দেখি বলিয়াই তোমার কাছে দাবীর সীমা নাই | তুমি যাহা আবিষ্কার করিতেছ ও করিবে তাহাতে জগতের যে-শিক্ষা লাভ হইবে, কর্ত্তব্যের অনুরোধে যে-দুঃখভার গ্রহণ করিবে তাহাতে তাহার চেয়ে কম শিক্ষা দিবে না | আমাদের মত বিষয়পরায়ণ সাবধানী, নিষ্ঠাবিহীন, ক্ষুদ্র লোকদের পক্ষে এই দৃষ্টাস্ত, এই শিক্ষা একান্তই আবশ্যক হইয়াছে | ... .... ... তুমি যদি ফার্লো না পাও তবে একবার এখানে আসিয়ো | যথাসাধ্য ভাল বন্দোবস্ত করিয়া একেবারে যাত্রা করিয়া রণক্ষেত্রে বাহির হইবে | ইহা ছাড়া আর কি পরামর্শ দিতে পারি? একবার দেখা পাইলে বড় আনন্দিত হইব—না যদি পাই, তবু, তুমি তোমার কার্য্যে অগ্রসর হইতে পারিতেছ এই খবর পাইলে আর কিছুই চাই না &nbsp;| তোমার উপরে আমার একান্ত নির্ভর আছে—বর্ত্তমান য়ুরোপ তোমাকে গ্রহণ করিল কি না তাহা লইয়া আমি অতিমাত্র উৎকণ্ঠিত হইতেছি না—তুমি যাহা দেখিতে পাইয়াছ তাহা বৈজ্ঞানিক মায়া-মরীচিকা নহে তাহাতে আমার সন্দেহমাত্র, দ্বিধামাত্র নাই ৷ তোমার উদ্ভাবিত সত্য একদিন বৈজ্ঞানিক সিংহাসনে অভিষিক্ত হইবে—সেদিনের জন্য ধৈর্য্য ধরিয়া অপেক্ষা করিতে পারিব |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ইতিমধ্যে তুমি একবার জার্ম্মানি বা আমেরিকায় যাইতে পারিলে বেশ হইত | এবারে না হয় আর একবার চেষ্টা দেখিতে হইবে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">কন্যাকে ইতিমধ্যে স্বামীগৃহে রাখিয়া আসিলাম | পথের মধ্যে কিছুদিন শাস্তিনিকেতনে বাস করিয়া আরাম লাভ করিয়াছি৷ সেখানে একটা নিৰ্জ্জন অধ্যাপনের ব্যবস্থা করিবার চেষ্টায় আছি | দুই একজন ত্যাগ-স্বীকারী ব্রহ্মচারী অধ্যাপকের সন্ধানে ফিরিতেছি |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমার রবি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(চিঠিপত্র / ষষ্ঠ খণ্ড / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বিশ্বভারতী / ১৯৫৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯০১ &nbsp;খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্য আশ্রমের সূচনা |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯ ডিসেম্বর ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় (১৮৬১-১৯০৭), রেবাচাঁদ, কলকাতা থেকে সংগৃহীত ছাত্রেরা ও কিছু অতিথি-অভ্যাগত শান্তিনিকেতনে এসে পৌঁছে যান | সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪২-১৯২৩), সত্যপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৮২-১৯৩৫) প্রভৃতি ঠাকুরবাড়ির সদস্যগণও এসে পৌঁছান | রবীন্দ্রনাথ ছাত্রদের ব্রহ্মচর্যে দীক্ষিত করলেন | উপদেশ দিলেন ‘শ্রেয়ান্‌ বস্যসোঽসানি স্বাহা’ | অর্থাৎ ‘আমি যেন ধনীর থেকেও শ্রেষ্ঠতর হই’ | ব্রহ্মচর্যাশ্রমের প্রথম পাঁচ-ছাত্র হলেন, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৮৮-১৯৬১), গৌরগোবিন্দ গুপ্ত, প্রেমকুমার গুপ্ত, অশোককুমার গুপ্ত ও সুধীরচন্দ্র নান | সূচনালগ্নে যাঁরা শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাঁরা হলেন রেবাচাঁদ ও শিবধন বিদ্যার্ণব | অগ্রহায়ণের গোড়াতেই জগদানন্দ রায় (১৮৬৯-১৯৩৩)-কে পূর্ববঙ্গের জমিদারী সেরেস্তা থেকে তুলে এনে গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষকতায় নিযুক্ত করেন রবীন্দ্রনাথ | ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার দিন খরচ হয়েছিল, তিন হাজার ষাট টাকা আট আনা |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ইউরোপে বিজ্ঞান-জয়যাত্রা সমাপ্ত করে সস্ত্রীক জগদীশচন্দ্র বোম্বাই পৌঁছান ১৯০২ সালের ১১ অক্টোবর (২৫ আশ্বিন) | দীর্ঘ দু-বছরের ব্যবধানের পর দুই বন্ধু আবার মিলিত হলেন | বিজ্ঞান-সাধক এখন বিশ্ববন্দিত, আর সাহিত্য-সাধকের খ্যাতি তখন দেশ থেকে দেশান্তরে | ১২ অক্টোবর রবীন্দ্রনাথ, মহাসমারোহে জগদীশচন্দ্র বসু-কে অভ্যর্থনা জানালেন | এই সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে কবি রচনা করেন যে গানঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জয় তব হোক জয় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">স্বদেশের গলে দাও তুমি তুলে যশোমালা অক্ষয় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বহুদিন হতে ভারতের বাণী &nbsp;&nbsp;আছিল নীরবে অপমান মানি,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তুমি তারে আজি জাগায়ে তুলিয়া রটালে বিশ্বময় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জ্ঞানমন্দিরে জ্বালায়েছ তুমি যে নব আলোকশিখা</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তোমার সকল ভ্রাতার ললাটে দিল উজ্জ্বল টিকা |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">অবারিতগতি তব জয়রথ &nbsp;&nbsp;&nbsp;ফিরে যেন আজি সকল জগৎ,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">দুঃখ দীনতা যা আছে মোদের তোমারে বাঁধি না রয় ॥</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(ভারতী পত্রিকার ফাল্গুন ১৩০৯ সংখ্যায় ‘বন্দনা’ শিরোনামে প্রকাশিত | ১৩০৯ সালের ১৯ মাঘ ভারতীয় সঙ্গীতসমাজ কর্তৃক আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসুর সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে রচিত)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">আর, এই বছর ২৩ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথ হারালেন তাঁর পত্নী মৃণালিনী দেবীকে (১৮৭২-১৯০২) | ৮ ডিসেম্বর রবীন্দ্রনাথ নাবালক দুই পুত্র ও এক কন্যাকে (এক কন্যা বিবাহিতা) নিয়ে শান্তিনিকেতনে পৌঁছন | এবার তাঁর পুত্র কন্যার দায়িত্ব ন্যস্ত করলেন পিসীমা রাজলক্ষ্মী দেবীর ওপর | হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৭-১৯৫৯) লিখছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘মৃণালিনী দেবী যখন শয্যাগত, সেই সময়ে তাঁহার পিসীমার সপত্নী রাজলক্ষ্মী দেবী তাঁহাকে দেখিতে কলিকাতায় আসিয়াছিলেন | সপত্নী হইলেও মৃণালিনী দেবীর প্রতি আপন পিসীমার মতই তাঁহার অকৃত্রিম স্নেহ ছিল | সেই সময় ভাইঝি তাঁহাকে বলিয়াছিলেন—“পিসীমা, আমি শয্যাগত, ছেলেমেয়েদের বড় কষ্ট হচ্ছে | তাদের দেখাশুনা করার কেউ নেই, তাদের ভার নিলে নিশ্চিন্ত হইতে পারি |” পিসীমা ভাইঝির কথা রক্ষা করিয়াছিলেন, সেই দিন হইতেই তিনি সংসারে থাকিয়া শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণের ভার গ্রহণ করিয়াছিলেন | শান্তিনিকেতনে কবির নূতন বাড়ীতে সংসারের ভার লইয়া তিনি শিশুদের প্রতিপালন করিয়াছেন, দেখিয়াছি &nbsp;| মীরা ও শমী তখন শিশু |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(কবির কথা / হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় / ১৩৬১)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ অক্টোবর রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধগয়া যাত্রা করেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 ff1"><span class="cf1">‘যাত্রার প্রাক্কালে সম্ভবত ২০ আশ্বিন (বৃহ ৬ অক্টোবর) গগনেন্দ্রনাথের গৃহে যাত্রীদলের অনেকে ও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি একটি চা-পানসভায় মিলিত হন | ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলের একজন ছাত্র শীতলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অশিক্ষিতপটুত্ব দিয়ে মর্মরপ্রস্তরে একটি লক্ষ্মীমূর্তি প্রস্তুত করেন, দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর গুণগ্রাহী হয়ে বহু ধনী ব্যক্তির সঙ্গে ভাস্করের পরিচয় করিয়ে দেন | লক্ষ্মীমূর্তিটির প্রদর্শন এই চা-পানসভার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল | দীনেশচন্দ্র লিখেছেনঃ ‘কিছুদিন হইল শ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের গৃহে টী-পার্টিতে কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন | তন্মধ্যে ডাক্তার জগদীশচন্দ্র বসু, শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্টেটসম্যান সম্পাদক র</span><span class="cf1">‍</span><span class="cf1">্যাটক্লিফ সাহেব, সিষ্টার নিবেদিতা, সিষ্টার ক্রিষ্টিন প্রভৃতি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিগণের নিকট লক্ষ্মীমূর্তিটি উপস্থিত করা হইয়াছিল | তাঁহাদের সকলেই নবীন ভাস্করের অশিক্ষিত পটুতা লক্ষ্য করিয়া বিশেষ প্রীতি প্রকাশ করিয়াছিলেন |’</span></span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(মর্ম্মর প্রস্তরে লক্ষী মূর্ত্তি / প্রবাসী / কার্তিক)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">৭ অক্টোবর নিবেদিতা দীনেশচন্দ্রকে লেখেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘In my opinion the marble statuette which you shewed us yesterday is full of promise and power. I had not expected anything half so good. For a first attempt we thought it quite remarkable.... Mr. Abanindranath Tagore promised me yesterday that he would give your friend the benefit of his own experience and advice and I know that Mr. Havell would be glad to do the same. As for myself I need hardly speak.’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(মর্ম্মর প্রস্তরে লক্ষী মূর্ত্তি / প্রবাসী / কার্তিক)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রথীন্দ্রনাথ তাঁর ডায়েরিতে এই ভ্রমণের বিবরণ লিখে রেখে গেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘অন্ধকারের ভিতর বুদ্ধের মূর্ত্তিটা ভারি impressive বলে মনে হল | বুদ্ধের সেই শান্ত তপোমূৰ্ত্তি মনকে অভিভূত করে দেয় | আমরা সব দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় একটি জাপানী একটি সাদা থান জড়িয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসল | পালিতে মন্ত্র পড়তে আরম্ভ করল | জাপানীকে সেরকম ভাবে দেখে ভারি আশ্চর্য্য লাগল | কোথায় সেই জাপান, সেখান থেকে একটি fisherman এসে এখানে থেকে সন্ধে সকাল বুদ্ধের আরাধনা করছে |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">পরবর্তীকালে রথীন্দ্রনাথ বিস্তৃতভাবে বুদ্ধগয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা স্মৃতিচারণ করেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে, মন্দিরের গায়ে গবাক্ষগুলিতে প্রদীপ জ্বেলে দেওয়া হয়েছে | চার দিকে নিস্তব্ধ; তার মধ্যে কানে এল ‘ওঁ মণিপদ্মে হুং’—বৌদ্ধমন্ত্রের মৃদুগম্ভীর ধ্বনির আবর্তন | কয়েকটি জাপানি তীর্থযাত্রী এই মন্ত্র আবৃত্তি করতে করতে মন্দির প্রদক্ষিণ করছেন; আর প্রতি পদক্ষেপে একটি করে ধূপ জ্বেলে রেখে দিয়ে যাচ্ছেন | কী শান্ত তাঁদের মূর্তি | কী গভীর তাঁদের ভক্তি | ইষ্টপূজার কী অনাড়ম্বর প্রণালী | অনতিপূর্বে মন্দিরের ভিতরে বুদ্ধমূর্তির সামনে মোহান্তের পুরোহিতদের কর্কশ ঢাক ঢোল বাজিয়ে আরতি দেখে এসেছিলুম | আমাদের মনে এই কথাটাই জাগল, ভগবান এঁদের মধ্যে কার পূজা খুশি হয়ে গ্রহণ করলেন? মন্দিরের পরিবেশ ছেড়ে কারো আর উঠতে ইচ্ছা হয় না | অনেক রাত পর্যন্ত জগদীশচন্দ্র, ভগিনী নিবেদিতা ও পিতৃদেব বৌদ্ধ ধর্ম ও বৌদ্ধ ইতিহাস নিয়ে নিবিষ্ট মনে আলোচনা করতেন | নিবেদিতা এক-একটি তর্ক তোলেন আর রবীন্দ্রনাথ চেষ্টা করেন তার যথাযোগ্য সমাধানে পৌঁছতে | আমরা অন্যেরা তাঁদের প্রশ্নোত্তর তর্ক-বিতর্ক মুগ্ধ হয়ে শুনে যাই | আমার বিশ্বাস, এই বুদ্ধগয়া-সন্দর্শনের ফলে উত্তরকালে বৌদ্ধ ধর্ম ও সাহিত্যে পিতৃদেবের অন্তরের আকর্ষণ প্রগাঢ় গভীর হয়ে উঠেছিল | শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে আমাকে তিনি ‘ধম্মপদ’ আগাগোড়া মুখস্থ করতে দিয়েছিলেন | পালি পড়াও শুরু হল এবং পিতারই আদেশক্রমে অশ্বঘোষের ‘বুদ্ধচরিত’ তর্জমার দুঃসাহসে প্রবৃত্ত হলুম |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(পিতৃস্মৃতি / রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর / জিজ্ঞাসা, কলকাতা / ১৩৬৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর শান্তিনিকেতনে পৌঁছায় | বিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র সহ সকলেই এই সংবাদে আত্মহারা হয়ে পড়েন | সমকালীন ছাত্র প্রমথনাথ বিশী লিখেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘লক্ষ্য করিলাম, অজিতবাবুর চলাফেরা প্রায় নৃত্যের তালে পরিণত হইয়াছে | ...তারপর ক্ষিতিমোহনবাবু প্রবেশ করিলেন | স্বভাবত তিনি গম্ভীরপ্রকৃতির লোক, চলাফেরায় সংযত, কিন্তু তাঁহাকেও চঞ্চল দেখিলাম |’ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন / প্রমথনাথ বিশী / বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ / ১৩৫১)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘আশ্রম কথা’-য় লিখিত হয়েছেঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘আশ্রমের আচার্য্য পূজনীয় রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে চার দিন... বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ ছিল |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(তত্ত্ববোধিনী)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এরপর কয়েকদিন ধরে বোলপুর টেলিগ্রাম অফিসকে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় | রবীন্দ্রনাথকে </span></div><div role="button" class="imTAJustify"><b><span class="fs14lh1-5 cf2 ff1">অভিনন্দন</span></b></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> জানিয়ে দেশ ও বিদেশ থেকে অজস্র টেলিগ্রাম আসতে থাকে | চিঠিও অসংখ্য | সমস্ত চিঠির উত্তর স্বহস্তে দেওয়া রবীন্দ্রনাথ কর্তব্য বিবেচনা করতেন | কিন্তু এখন সেই কর্তব্যপালন তাঁর সাধ্যাতীত হয়ে দাঁড়াল | তাঁর লিখিত বয়ান সাইক্লোস্টাইল করা হল | ‘আমার সম্মানলাভে যাঁহারা আনন্দ প্রকাশ করিতেছেন তাঁহাদের প্রতি আমার অন্তরের কৃতজ্ঞতা নিবেদন করিতেছি | ইতি ১লা অগ্রহায়ণ ১৩২০ |’ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(দেশ / ১৮ ফাল্গুন, ১৩৯১)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথের হস্তাক্ষরে লিখিত এই বয়ানের সাইক্লোস্টাইল যন্ত্রে মুদ্রিত প্রতিলিপি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয় | তা সত্ত্বেও বিশিষ্ট কিছু বন্ধুর চিঠির উত্তর তিনি আলাদা করেই দিয়েছেন | উক্ত তারিখেই রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীকে রবীন্দ্রনাথ লেখেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘সম্মানের ভূতে আমাকে পাইয়াছে, আমি মনে মনে ওঝা ডাকিতেছি—আপনাদের আনন্দে আমি সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারিতেছি না | আপনি হয়ত ভাবিবেন এটা আমার অত্যুক্তি হইল কিন্তু অন্তর্যামী জানেন আমার জীবন কিরূপ ভারাতুর হইয়া উঠিয়াছে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">“কোলাহল ত বারণ হল / এবার কথা কানে কানে”—</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এই কবিতাটি দিয়া আমি গীতাঞ্জলির ইংরেজি তর্জ্জমা শুরু করিয়াছিলাম | কারণটা যে কত দূর সফল হইল তাহা দেখিতেই পাইতেছেন |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(দেশ, সাহিত্য, ১৩৮৫ / ১৯, পত্র ৩৩)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রোটেনস্টাইন (William Rothenstein, 1872-1945) </span></div><div role="button" class="imTAJustify"><b><span class="fs14lh1-5 cf2 ff1">অভিনন্দন</span></b></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> জানিয়ে টেলিগ্রাম ও চিঠি পাঠান | রবীন্দ্রনাথ টেলিগ্রামের উত্তরে ১৮ নভেম্বর, ১৯১৩ (মঙ্গল ২ অগ্র) তাঁকে লেখেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">‘The very first moment I received the message of the great honour conferred on me by the award of the Nobel prize my heart turned towards you with love and gratitude. I felt certain that of all my friends none would be more glad at this news than you. But, all the same, it is a very great trial for me. The perfect whirlwind of public excitement it has given rise to is frightful. It is almost as bad as tying a tin can at a dog’s tail making it impossible for him to move without creating noise and collecting crowds all along. I am being smothered with telegrams and letters for the last few days and the people who never read a line of my works are loudest in their protestations of joy’.</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">(Imperfect Encounter–Letters of William Rothenstein &amp; Rabindranath Tagore 1911–1941 / Harvard University Press, 1974)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এই উপলক্ষ্যে সম্পাদক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর প্রস্তাবে ও সভাপতি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর অনুমোদনে ৫ অগ্র (শুক্র, ২১ নভেম্বর) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কার্যনির্বাহক সমিতির একটি বিশেষ অধিবেশন আহূত হয় | এখানে গৃহীত প্রস্তাবগুলি সম্বন্ধে কার্যবিবরণী পুস্তকে লেখা হয়ঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১ | রামেন্দ্র বাবুর পত্র পঠিত হইল এবং স্থির হইল যে, Swedish Academyকে ধন্যবাদসূচক পত্র দেওয়ার প্রস্তাব করা প্রয়োজন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">২ | রামেন্দ্র বাবুর প্রস্তাব অনুমোদন পূর্ব্বক সভাপতি মহাশয় নিম্নলিখিত টেলিগ্রাম রবীন্দ্রবাবুর নিকট পাঠাইয়া দিলেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">‘Hearty Congratulation on the Triumph of Rabindranath and the recognition of the Bengali literature through him by European nations. A deputation of the Bangiya Sahitya Parishad will reach Bolpur on Sunday’.</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">—Shastri</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এ সম্বন্ধে বহু বাদানুবাদের পর স্থির হইল যে, রবীন্দ্রনাথকে উপযুক্তরূপে সম্বর্থনা করা উচিত এবং রবিবারে যে ডেপুটেশন বা প্রতিনিধিবর্গ যাইবেন, তাঁহারা উক্ত সম্বর্দ্ধনা উপলক্ষ্যে পরিষদের পক্ষ হইতে রবীন্দ্রনাথকে নিমন্ত্রণ করিয়া আসিবেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">৩ | সভাপতি মহাশয় প্রস্তাব করিয়াছিলেন যে, রবীন্দ্রনাথকে সোনার দোয়াত ও কলম উপহার দেওয়া হউক | এ সম্বন্ধে স্থির হইল যে, কি ভাবে সম্বর্দ্ধনা করিতে হইবে, বিবেচনা করিবার সময় উহার বিচার করা যাইবে &nbsp;|</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">৪ | অতঃপর নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলি গৃহীত হইলঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(ক) “যাঁহার গৌরবে আজি বঙ্গদেশ গৌরবান্বিত, যাঁহার প্রভায় আজি বঙ্গ-সাহিত্য প্রভান্বিত, যাঁহার রচনা অবলম্বনে বাঙ্গালা সাহিত্য জগতের সাহিত্য মধ্যে উন্নত আসন অধিকার করিয়াছে, যাঁহার সম্মানে ভারতবর্ষে আনন্দের স্রোত বহিয়াছে, বাঙ্গালা সাহিত্য-সমাজের মুখপাত্রস্বরূপে বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ সেই আনন্দে সর্ব্বান্তঃকরণে যোগ দিতেছেন |” </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(খ) “সুইডিস্ একাডেমী ডাক্তার রবীন্দ্রনাথের রচনা পাঠান্তে বঙ্গীয়-সাহিত্যের প্রতি সম্ভ্রমবুদ্ধি প্রকাশ করিয়া ডাক্তার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়কে এবৎসর বিদ্বৎসমাজের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানকর পারিতোষিক “নোবেল প্রাইজ” দান করিয়া বাঙ্গালী সাহিত্যিকবর্গের ধন্যবাদভাজন হইয়াছেন | সমগ্র বঙ্গের সাহিত্য-সমাজের মুখপাত্রস্বরূপ বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ সুইডিস্ একাডেমীকে সেই জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছেন |”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(গ) “পরিষদের চিরবন্ধু ডাক্তার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তিতে তাঁহাকে উপযুক্তরূপে সম্বৰ্দ্ধনা করিবার জন্য ব্যবস্থা করা হউক |” </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(ঘ) ডাক্তার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়কে এই সম্বৰ্দ্ধনা উপলক্ষ্যে বোলপুরে নিমন্ত্রণ করিবার নিমিত্ত বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদের পক্ষ হইতে নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণকে নিযুক্ত করা হউক |”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, আশুতোষ চৌধুরী, সারদাচরণ মিত্র, যতীন্দ্রনাথ চৌধুরী, সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়, শৈলেশচন্দ্র মজুমদার, মন্মথমোহন বসু, কবিরাজ দুর্গানারায়ণ সেনশাস্ত্রী ও ব্যোমকেশ মুস্তফী |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শান্তিনিকেতনেও রবীন্দ্র-সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় | সেই সভায় সভাপতিত্ব করেন কবি-বন্ধু, জগদীশচন্দ্র বসু |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ক্ষিতিমোহন, দিনেন্দ্রনাথ ও কয়েকজন ছাত্র বেদমন্ত্র পাঠ ও গান করে অতিথিদের অভ্যর্থনা করলেন &nbsp;| আশুতোষ চৌধুরীর প্রস্তাবে ও ভূপেন্দ্রনাথ বসুর সমর্থনে জগদীশচন্দ্র বসু সভাপতি-পদে বৃত হলেন | সভাস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন প্রতিনিধি মনোনীত হয়ে রবীন্দ্রনাথকে সভায় আহ্বান করে আনতে গেলেন | ইতিমধ্যে হীরেন্দ্রনাথ দত্ত </span></div><div role="button" class="imTAJustify"><b><span class="fs14lh1-5 cf2 ff1">অভিনন্দন</span></b></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> পত্রটি পাঠ করে সকলকে শোনালেন | পট্টবস্ত্রাবৃত চন্দনচর্চিত রবীন্দ্রনাথ সভাস্থলে এলে শঙ্খধ্বনি ও মহিলাদের পরমেশ-বন্দনার মধ্যে সভাপতি জগদীশচন্দ্র তাঁকে মাল্যভূষিত করেন | সংগীতের পর হীরেন্দ্রনাথ রেশমী কাপড়ে মুদ্রিত অভিনন্দনটি পাঠ করে রবীন্দ্রনাথকে অর্পণ করলেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘যাঁহার কাব্যবীণায় বিকাশোন্মুখ শিশু-হৃদয়ের প্রভাতী কাকলী হইতে অধ্যাত্ম-রাগ-রঞ্জিত পৌঢ়-বৈরাগ্যের বৈকালী সুর পর্যন্ত নিখিল রাগিণী নিঃশেষে ধ্বনিত হইয়াছে, যাঁহার নব-নব-উন্মেষ-শালিনী প্রতিভার অজস্র কিরণসম্পাতে বঙ্গীয় নরনারীর দৈনন্দিন জীবন আজ সমুজ্জ্বল, যিনি বিশেষ ভাবে বাঙালীর জাতীয় কবি হইয়াও সার্ব্বভৌমিক গুণিগণের গণনায় জগতের কবি সভায় সম্মানের মহোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছেন, সেই ভাব ও জ্ঞান রাজ্যের বর্ত্তমান সম্রাট ধ্যানরসিক স্বদেশের প্রিয়তম কবি/শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহোদয়কে/বঙ্গের আবালবৃদ্ধবনিতা শ্রদ্ধার স্রক্‌চন্দনে/ অভিনন্দিত করিতেছে |/ ৭ই অগ্রহায়ণ ১৩২০ বঙ্গাব্দ |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর ড. জগদীশচন্দ্র বসুর জন্মদিনে ‘বসু-বিজ্ঞান মন্দির’-এর উদ্বোধন হলো | তাঁর জীবনের সকল সঞ্চয় ও অনেকের দানে জগদীশচন্দ্র এই গবেষণাগার নির্মাণ করেন | উদ্বোধনের বিবরণ পাওয়া যায় ১ ডিসেম্বর ১৯১৭</span><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2"> ‘The Amrit Bazar Patrika’-তে | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff2">‘... The proceedings opened with the singing of a Vedic song followed by the recital of invocation “stotras” in Sanskrit. Some of the senior students approached Dr. Bose and after garlanding him begged his blessings. Dr. Bose blessed them all after which Dr. Bose read his speech as follows.’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ এই উপলক্ষ্যে রচনা করেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">মাতৃমন্দির-পুণ্য-অঙ্গন কর’ মহোজ্জ্বল আজ হে</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বর &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;পুত্রসঙ্ঘ বিরাজ’ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শুভ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;শঙ্খ বাজহ বাজ’ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ঘন &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;তিমিররাত্রির চির প্রতীক্ষা</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">পূর্ণ কর’, লহ’ জ্যোতিদীক্ষা,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">যাত্রীদল সব সাজ’ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শুভ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;শঙ্খ বাজহ বাজ’ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বল &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;জয় নরোত্তম, পুরুষসত্তম,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জয় তপস্বিরাজ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এস’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;বজ্রমহাসনে মাতৃ-আশীর্ভাষণে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সকল সাধক এস’ হে, &nbsp;&nbsp;ধন্য কর’ এ দেশ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সকল যোগী, সকল ত্যাগী, এস’ দুঃসহদুঃখভাগী—</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এস’ দুর্জয়শক্তিসম্পদ মুক্তবন্ধ সমাজ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এস’ জ্ঞানী, এস’ কর্মী নাশ’ ভারতলাজ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এস’ মঙ্গল, এস’ গৌরব,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এস’ অক্ষয়পুণ্যসৌরভ,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">এস’ তেজঃসূর্য উজ্জ্বল কীর্তি-অম্বর মাঝ হে</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বীরধর্মে পুণ্যকর্মে বিশ্বহৃদয়ে রাজ’ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শুভ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;শঙ্খ বাজহ বাজ’ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জয় &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;জয় নরোত্তম, পুরুষসত্তম,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জয় তপস্বিরাজ হে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় হে॥</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(জগদীশচন্দ্রের ‘বসু-বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা দিবস ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৩২৪ উপলক্ষ্যে রচিত)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর সঙ্গে প্রথম থেকে যুক্ত থেকেছেন জগদীশচন্দ্র বসু | বিশ্বভারতীর সকল কাজে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন তিনি | ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দের ১৬মে (১৩২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জ্যৈষ্ঠ) বিশ্বভারতীর সংবিধান ACT XXI of 1860 অনুসারে রেজিস্ট্রি হয় | গঠিত হয় পরিষৎ, সংসদ (Governing Body), ন্যাসিক সভা Board of Trustees), কর্মসমিতি (Executive Committee), শিক্ষাসমিতি (Academic Council), অধ্যাপকমগুলি, নারী সমিতি, সুরুল সমিতি (Surul Agricultural Board), স্থানিক সভা (Recognised Local Bodies) এবং বিভিন্ন অনুমোদিত সঙ্ঘসমূহ নিয়ে বিশ্বভারতীর পরিচালনা পদ্ধতি গঠিত হয় | রবীন্দ্রনাথ হন প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য, তাঁর কার্যকাল আজীবন, যদি-না তিনি আগেই অবসর নিতে ইচ্ছুক হন | প্রথম অর্থসচিব (Treasurer) হন দ্বিপেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং যুগ্ম-কর্মসচিব রথীন্দ্রনাথ ও প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ (১৮৯৩-১৯৭২) | ‘প্রধান’ মনোনীত হন পিঠাপুরমের রাজা, জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭), ব্রজেন্দ্রনাথ শীল (১৮৬৪-১৯৩৮) ও সি. এফ. অ্যান্ডরুজ (১৮৭১-১৯৪০); প্রতিষ্ঠাতা সাম্মানিক সদস্য মাইকেল স্যাডলার (১৮৬১-১৯৪৯), সিলভ্যাঁ লেভি (১৮৬৩-১৯৩৫) এবং জাপানের এম. আনেসাকি (১৮৭৩-১৯৪৯); ন্যাসিক-সভার সদস্য রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১), দ্বিপেন্দ্রনাথ (১৮৬২-১৯২২), সুরেন্দ্রনাথ (১৮৪৮-১৯২৫), রথীন্দ্রনাথ (১৮৮৮-১৯৬১), নীলরতন সরকার (১৮৬১-১৯৪৩), রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় (১৮৬৫-১৯৪৩), হীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৬৮-১৯৪২) ও প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬); প্রথম কর্মাধ্যক্ষরা হলেন আশ্রমসচিব জগদানন্দ রায় (১৮৬৯-১৯৩৩), সুরুলসচিব এল্‌ম্‌হার্স্ট, উত্তর বিভাগের অধিনেতা বিধুশেখর শাস্ত্রী (১৮৭৮-১৯৫৯) ও পূর্ব বিভাগের অধিনেতা সন্তোষচন্দ্র মজুমদার (১৮৮৪-১৯২৬) | প্রথম সংসদ গঠিত হয় কর্মকর্তা, প্রধান, কর্মাধ্যক্ষ এবং সাধারণ সদস্য গগনেন্দ্রনাথ (১৮৬৭-১৯৩৮), নেপালচন্দ্র রায় (১৮৬৭-১৯৪৪), শিশিরকুমার মৈত্র (১৯০১-১৯৭৬), সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র (১৮৮১-১৯৪৫), ফণিভূষণ অধিকারী, সুশীলকুমার রুদ্র, মহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯), ক্ষিতিমোহন সেন (১৮৮০-১৯৬০), যদুনাথ সরকার (১৮৭০-১৯৫৮), সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭২-১৯৪০), মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৮৮-১৯২৯), জে. এইচ. কাজিন্‌স্‌ (১৮৭৩-১৮৫৬), অম্বালাল সারাভাই (১৮৯০-১৯৬৭), প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৮৬-১৯৬৭) ও দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৮২-১৯৩৫), অধ্যাপকমণ্ডলির প্রতিনিধি নন্দলাল বসু (১৮৮৩-১৯৬৬), তেজেশচন্দ্র সেন (১৮৯৩-১৯৬০), সুরেন্দ্রনাথ কর (১৮৯২-১৯৭০), রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় (১৮৯২-১৯৮৫), নারীসমিতির প্রতিনিধি স্নেহলতা সেন, কিরণবালা সেন (১৮৮৯-১৯৮৩) ও হেমলতা ঠাকুর (১৮৭৪-১৯৬৭), সুরুলসমিতির প্রতিনিধি কালীমোহন ঘোষ (১৮৮২-১৯৪০) ও গৌরগোপাল ঘোষকে নিয়ে | প্রথম কর্মসমিতির সদস্যেরা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, দ্বিপেন্দ্রনাথ, রথীন্দ্রনাথ, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ, অ্যান্ডরুজ, জগদানন্দ রায়, নেপালচন্দ্র রায় (১৮৬৭-১৯৪৪), ক্ষিতিমোহন সেন, এল্‌ম্‌হার্স্ট, সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিধুশেখর শাস্ত্রী (১৮৭৮-১৯৫৯), সন্তোষচন্দ্র মজুমদার, গৌরগোপাল ঘোষ, সুরেন্দ্রনাথ কর, অনিলকুমার মিত্র, স্নেহলতা সেন ও কিরণবালা সেন (১৮৮৯-১৯৮৩) | প্রথম শিক্ষাসমিতির সদস্যেরা ছিলেন ৮ জন কর্মকর্তা ও প্রধান ছাড়া জগদানন্দ রায়, এল্‌ম্‌হার্স্ট, বিধুশেখর শাস্ত্রী, সন্তোষচন্দ্র মজুমদার, নন্দলাল বসু, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, ভীমরাও শাস্ত্রী, পিয়র্সন, মরিস, সুরেন্দ্রনাথ কর, গৌরগোপাল ঘোষ, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৭-১৯৫৯), অনিলকুমার মিত্র, বিভূতিভূষণ গুপ্ত, ধীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, স্নেহলতা সেন, কিরণবালা সেন এবং সুধাময়ী মুখোপাধ্যায় | নারীসমিতির প্রথম সদস্যরা হলেন স্নেহলতা সেন, কিরণবালা সেন, প্রতিমা ঠাকুর (১৮৯৩-১৯৬৯), সুধীরা বসু, যুগলমোহিনী মজুমদার, সুধাময়ী মুখোপাধ্যায় (১৮৯৬-১৯৮২), সংজ্ঞা ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ এবং অ্যান্ডরুজ | প্রথম সুরুল সমিতির সদস্যেরা ছিলেন চার কর্মকর্তা, অ্যান্ডরুজ, এল্‌ম্‌হার্স্ট, সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪২-১৯২৩), ক্ষিতিমোহন সেন, সন্তোষচন্দ্র মজুমদার, গৌরগোপাল ঘোষ, কালীমোহন ঘোষ এবং সুরেন্দ্রনাথ কর (১৮৯২-১৯৭০) |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জগদীশচন্দ্র বসু বিশ্ব-বিখ্যাত জীব-পদার্থবিজ্ঞানী | তিনি একইসঙ্গে পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ, ও জীববিজ্ঞানী | তিনি একজন কল্পবিজ্ঞান রচয়িতাও | ‘ইনস্টিটিউট্‌ অব্‌ ইলেকট্রিক্যাল্‌ অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স্‌ ইঞ্জিনিয়ার্স’ তাঁকে ‘রেডিও বিজ্ঞানের জনক’ বলে অভিহিত করেছেন | ইওরোপে বিজ্ঞানচর্চা শুরু হবার কয়েক শতাব্দী পরেও আমাদের উপমহাদেশে বিজ্ঞানচর্চা তেমন সফলতা পায়নি | জগদীশচন্দ্র বসুই প্রথম বাঙালি-বিজ্ঞানী, যিনি এই উপমহাদেশে আধুনিক বিজ্ঞান-গবেষণায় বিপ্লব এনেছিলেন | বিশ্ববাসীর কাছে তিনি প্রমাণ করেছিলেন পরাধীন ভারতবর্ষের একজন বাঙালি, মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে | জর্জ বার্নার্ড শ’ (১৮৫৬-১৯৫০) তাঁর লেখা সমস্ত গ্রন্থ জগদীশচন্দ্রকে উপহার দিয়েছিলেন | সেই উপহারের ওপর লিখেছিলেনঃ ‘From the least to the greatest Biologist’ | রোঁম্যাঁ রোল্যাঁ (১৮৬৬-১৯৪৪) তাঁর ‘জাঁ ক্রিস্তফ’ (Jean-Christophe) বইটি জগদীশচন্দ্রকে উপহার দিয়েছিলেন এই কথা লিখেঃ ‘To the Revealer of a New World’ | বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫) বলেছিলেনঃ ‘জগদীশচন্দ্র বসু যেসব অমূল্য তথ্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন, তার যে কোন একটির জন্য বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করা যেতে পারে |’ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">অথচ, এই প্রতিভাধর মানুষকে জীবনে লড়তে হয়েছে অনেক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে | জীবন সংগ্রামে যখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তেন তখন বন্ধু রবীন্দ্রনাথ তাঁকে সাহস যুগিয়েছেন | রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থখানি জগদীশচন্দ্রকে উৎসর্গ করে লিখেছিলেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘উৎসর্গ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সুহৃদ্‌বর শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসু বিজ্ঞানাচার্য</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">করকমলেষু</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সত্য রত্ন তুমি দিলে, পরিবর্তে তার</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">কথা ও কল্পনামাত্র দিনু উপহার |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শিলাইদহ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">অগ্রহায়ণ, ১৩০৬</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(কথা / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / ১৮৯৯)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">কবির চোখে জগদীশচন্দ্র ছিলেন সত্যদ্রষ্টা এক ঋষি | তিনি লিখছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘ভারতের কোন্ বৃদ্ধ ঋষির তরুণ মূর্তি তুমি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">হে আচার্য জগদীশ | কী অদৃশ্য তপোভূমি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বিরচিলে এ পাষাণনগরীর শুষ্ক ধূলিতলে |...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে লেখক সুধাংশু পাত্র লিখেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> ‘জগদীশচন্দ্র কেবলমাত্র বিজ্ঞানী ছিলেন না, লেখক হিসেবে তাঁর সুনাম আজও অক্ষুন্ন আছে | ‘Plant Response’, ‘Electro-Physiology’ এবং ‘The Motor Mechanism of Plants’ তাঁর তিনটি প্রখ্যাত গ্রন্থ | তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘অব্যক্ত’ বাংলা-সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(ভারতের বিজ্ঞান সাধক / সুধাংশু পাত্র / সুজন প্রকাশনী ১৯৮৬)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বিজ্ঞান-বিষয়ের প্রবন্ধকার শিব শংকর সেনাপতি জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে একটি গ্রন্থে লিখেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> ‘জীববিদ্যা বিভাগে জগদীশচন্দ্রের কাজ যথেষ্ট স্বীকৃতি পেয়েছে | জগদীশচন্দ্র একজন পদার্থ বিজ্ঞানী হয়েও সবরকম প্রথা ভেঙ্গে নিজেকে জীববিজ্ঞানীরূপে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন সমগ্র বিশ্বে |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(আধুনিক জীবপদার্থবিদ্যার জনক আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু / শিব শংকর সেনাপতি / প্রতিফলন পাবলিকেশনস)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘বিজ্ঞান ও রসসাহিত্যের প্রকোষ্ঠ সংস্কৃতির ভিন্ন ভিন্ন মহলে, কিন্তু তাদের মধ্যে যাওয়া-আসার দেনা-পাওনার পথ আছে | জগদীশ ছিলেন সেই পথের পথিক | সেই জন্যে বিজ্ঞানী ও কবির মিলনের উপকরণ দুই মহল থেকেই জুটত | আমার অনুশীলনের মধ্যে বিজ্ঞানের অংশ বেশি ছিল না, কিন্তু ছিল তা আমার প্রবৃত্তির মধ্যে | সাহিত্য সম্বন্ধে তাঁর ছিল অনুরূপ অবস্থা | সেই জন্যে আমাদের বন্ধুত্বের কক্ষে হাওয়া চলত দুই দিকের দুই খোলা জানলা দিয়ে | তাঁর কাছে আর একটা ছিল আমার মিলনের অবকাশ যেখানে ছিল তাঁর অতি নিবিড় দেশপ্রীতি |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(চিঠিপত্র / ষষ্ঠ খণ্ড / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / বিশ্বভারতী / ১৯৫৭)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু প্রয়াত হয়েছেন | রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ৭৭ | জগদীশচন্দ্রের প্রায়াণে রবীন্দ্রনাথ শোকাহত | আশ্চর্যজনক ভাবে রবীন্দ্রনাথ তখন বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থপাঠে আরো মনোনিবেশ করছেন | ১৯৩৭-এর ১৯ এপ্রিল হেমন্তবালা দেবীকে কবি লিখছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘সাহিত্যের বই এর চেয়ে বিজ্ঞানের বই আমি বেশি পড়ে থাকি |...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তখন তাঁর বিজ্ঞান-বিষয়ক গ্রন্থ ‘বিশ্বপরিচয়’ লেখা চলছে | ২ অক্টোবর, ১৯৩৭ ‘বিশ্বপরিচয়’-এর ভূমিকায় কবি লিখলেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘বুদ্ধিকে মোহমুক্ত ও সতর্ক করবার জন্য প্রধান প্রয়োজন বিজ্ঞান চর্চার |...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ভাবজগতের কবি &nbsp;মোহমুক্ত ও বিজ্ঞানমনস্ক হয়েছেন জগদীশচন্দ্র বসুর সান্নিধ্যে, আর, বিজ্ঞান- তপস্বী জগদীশচন্দ্র রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে সাহিত্য রসে রসসিক্ত হয়ে প্রতি পরমাণু-তে গতিময়তার স্পন্দন অনুভব করছেন | ‘অব্যক্ত’-গ্রন্থে লিখছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">‘যাহা বিচ্ছিন্ন মনে করিতাম, প্রকৃতপক্ষে তাহা বিচ্ছিন্ন নহে | শূন্যে বিক্ষিপ্ত কোটি কোটি জগৎ আকাশসূত্রে গ্রথিত | এক জগতের স্পন্দন আকাশ বাহিয়া অন্য জগতে সঞ্চালিত হইতেছে |’ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(অব্যক্ত / জগদীশচন্দ্র বসু / পাতাবাহার / ২০১৩)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সীমার মধ্যে অসীমের সন্ধান করেছেন রবীন্দ্রনাথ, আর অসীমের মধ্যে সীমা-কে খুঁজে পেয়েছেন জগদীশচন্দ্র | অব্যক্ত, ব্যক্ত হয়েছে জগদীশচন্দ্রের অনুভবে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"><b>ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী</b></span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">রাষ্ট্রপতি-পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রবীন্দ্র গবেষক || ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ || মে ২৩, ২০২১</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Thu, 03 Jun 2021 14:22:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/photo_2021-06-03_19-53-20_thumb.jpg" length="35777" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?-------------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/000000013</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[রামমোহন ও দ্বারকানাথ: একটি বহুমাত্রিক সম্পর্ক]]></title>
			<author><![CDATA[ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%A8_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F_%E0%A6%93_%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0"><![CDATA[রামমোহন রায় ও দ্বারকানাথ ঠাকুর]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_000000012"><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) ও দ্বারকানাথ ঠাকুর (১৭৯৪-১৮৪৬) এই দুই অগ্রদূত বঙ্গদেশে আধুনিকতার সূচনা করেছিলেন | রামমোহন রায়, তাঁর সহযোগী দ্বারকানাথ ঠাকুরের চেয়ে ২২ বছরের বড়, অথচ, তাঁরা পরস্পরের সাথে মিশেছেন অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত | আচরণে কিছু প্রভেদ থাকলেও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমকালীন সমাজের রক্ষণশীলতা ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে উভয়ে ক্রিয়াশীল থেকেছেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন ১৮১৫ সালে একেশ্বরবাদী হিন্দুধর্ম বিষয়ে চর্চার জন্য ‘আত্মীয় সভা’ স্থাপন করেন | ‘আত্মীয় সভা’ গঠনের পূর্বে তিনি বেদসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেছেন | পড়েছেন কোরান ও বাইবেল | বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর তিনি উপলব্ধি করেন ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় | সেই সঙ্গে সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিই যে মানবতার প্রধান শত্রু এও উপলব্ধি করেন | মূলতঃ একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠা ও সমকালের সমাজে কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রতিরোধে আন্দোলন, এই দুই উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’-র প্রতিষ্ঠা | এই ‘আত্মীয় সভা’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বঙ্গদেশে আধুনিকতার সূচনা | ‘আত্মীয় সভা’-র মাধ্যমে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সাথে রামমোহনের পরিচয় | দ্বারকানাথ ঠাকুর, ‘আত্মীয় সভা’-র অধিবেশন যোগদান করতেন ও আলোচনা-বিতর্কে অংশগ্রহণ করতেন | সেই সময়ে ‘আত্মীয় সভা’-য় যোগদান করেছিলেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">প্রসন্নকুমার ঠাকুর (১৮০১-১৮৬৮), নন্দকিশোর বসু, শিবপ্রসাদ মিশ্র, হরিহরানন্দ তীর্থস্বামী, কালিনাথ মুন্সি, বৈকুণ্ঠনাথ মুন্সি, কালিশংকর ঘোষাল, বৃন্দাবন মিত্র, ব্রজমোহন মজুমদার, নীলরতন হালদার, অন্নদাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈদ্যনাথ মুখার্জি, রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ (১৭৮৬-১৮৪৫), হলধর বসু, রাজনারায়ণ সেন | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">অমিতাভ মুখার্জি তাঁর গ্রন্থে </span><span class="fs14lh1-5 ff2">‘Reform and Regeneration in Bengal’</span><span class="fs16lh1-5 ff1"> উল্লেখ করেছেনঃ </span><span class="fs14lh1-5 ff2">‘A large number of rich and influential people of the city gathered round him (Rammohun Roy), forming a circle of friends and admirers.’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 ff2">(Reform and Regeneration in Bengal, 1774-1823 | Amitabha Mukhopadhyaya | Rabindra Bharati University | January 1, 1968)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহনের জীবনীকার সোফিয়া ডবসন কলেট লিখেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 ff2">‘The meetings were not quite public and were attended chiefly by Rammohun’s personal friends. Among these may be mentioned Dwarkanath Tagore, Brajamohan Majumdar, Haladhar Bose, Nandakishore Bose and Rajnarayan Sen’. </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 ff2">(The Life and Letters of Raja Rammohun Roy/ Sophia Dobson Collet)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮১৬ সালে ‘আত্মীয় সভা’-র এক আলোচনা সভায় উপস্থিত হন ডেভিড হেয়ার (১৭৭৫-১৮৪২) | ঐ আলোচনা সভায় ডেভিড হেয়ার একটি আধুনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন | পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সেদিন উপলব্ধি করেছিল ‘আত্মীয় সভা’ | এদিনের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় যাঁর মাধ্যমে এই প্রস্তাব বিষয়ে অবহিত হন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্যার এডওয়ার্ড হাইড ইস্ট </span><span class="fs14lh1-5 ff2">(Sir Edward Hyde East / 1764-1847) </span><span class="fs16lh1-5 ff1">| বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছাড়াও যাঁদের সমর্থন আদায় করেন তাঁরা হলেনঃ জয়কৃষ্ণ সিংহ, রাধাকান্ত দেব (১৭৮৩-১৮৬৭), রামকমল সেন (১৭৮৩-১৮৪৪), দ্বারকানাথ ঠাকুর (১৭৯৪-১৮৪৬), মতিলাল শীল (১৭৯২-১৮৫৪), মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনুঃ ১৭৬২-১৮১৯) | হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য যে কমিটি গঠিত হয় সেখানে রামমোহন রায় না থাকলেও তিনি পরোক্ষভাবে এই সংক্রান্ত সব কাজে সহযোগিতা করেছেন | &nbsp;১৮১৭ সালের ২০জানুয়ারি কলকাতার গরাণহাটায় গোরাচাঁদ বসাকের বাড়িতে হিন্দু কলেজের উদ্বোধন হয় | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮২৮ সালে &nbsp;অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান হেনরী লুই ভিভিয়ান &nbsp;ডিরোজিও (১৮০৯-১৮৩১) হিন্দু কলেজে ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাসের শিক্ষক নিযুক্ত হন | ছাত্রদের ওপর তাঁর বিস্ময়কর প্রভাব ছিল | তাঁর ছাত্রদের অনেকেই নিজেদেরকে &nbsp;‘ইয়ং বেঙ্গল’ গ্রুপের সদস্য বলে অভিহিত করতেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">অবশেষে ১৮৫৫ সালের ১৫ এপ্রিল হিন্দু কলেজের পরিসমাপ্তি ঘটে | তার স্থলে নামকরণ হয় ‘প্রেসিডেন্সি কলেজ’, ১৮৫৫ সালের ১৫ জুন যার যাত্রা শুরু | এখন প্রেসিডেন্সি কলেজ, ‘প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ভারতবর্ষের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে ডেভিড হেয়ার কলকাতা ইংরেজি বিদ্যালয় ‘পটলডাঙা একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার পরে নাম হয় ‘হেয়ার স্কুল’ | এ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনার উদ্দেশ্যে তিনি ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি’ ও ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন | এইসব প্রতিষ্ঠান গঠনের সময় ডেভিড হেয়ার রামমোহন ও দ্বারকানাথ উভয়ের সহযোগিতা পেয়েছেন | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন রায় কলকাতার হেদুয়ার কাছে ‘অ্যাংলো হিন্দু স্কুল’ (১৮২২) নামে একটি ইংরেজি স্কুল স্থাপন করেন | দ্বারকানাথ তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র দেবেন্দ্রনাথকে এই স্কুলে ভর্তি করে দেন | রামমোহন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র রমাপ্রসাদ-কেও ভর্তি করে দেন ঐ স্কুলে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">পূর্বে গঠিত ‘আত্মীয় সভা’-কে ১৮২৮ সালে রামমোহন ‘ব্রাহ্মসমাজ’-এ রূপান্তরিত করেন | ব্রাহ্মসমাজের উপাস্য নিরাকার ‘‘ব্রহ্ম’’ | যে ধর্মে নিরাকার ‘ব্রহ্মই উপাস্য, সে ধর্ম ‘ব্রাহ্মধর্ম’ | ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বীরা উপনিষদের ‘ব্রহ্মতত্ত্ব’-কে গ্রহণ করেছেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">উপনিষদের মতে– ‘‘ব্রহ্ম’’ হচ্ছেন এক এবং অদ্বিতীয় সত্তা | এই ব্রহ্মের দ্বারা এই চলমান বিশ্বচরাচর আচ্ছাদিত | ইনি নিজ দশা থেকে পরিবর্তিত হন না | এই কারণে ঈশ উপনিষদে এঁকে ‘অনেজৎ’ বা ‘অকম্প’ বলা হয়েছে | এবং অচল হয়েও ইনি প্রচণ্ড বেগবান | এই প্রবল গতিময়তার জন্যই তাঁকে আমরা সর্বত্র পাই | তিনি দূরে, নিকটে, সবার অন্তরে আছেন | সর্বত্র আছেন বলেই ইনি সর্বত্র বিরাজমান এবং প্রবল গতিকে অনুসরণ করে উপলব্ধ করা যায় না বলেই তাঁকে অচল মনে হয় এবং সর্বত্র আছেন বলে মনে হয় | তিনি জ্যোতির্ময় এবং অশরীরী | অশরীরী শব্দটি আত্মার স্বরূপ অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে | এই কারণে ‘ব্রহ্ম’, সাধারণ পার্থিব দৃষ্টি ক্ষমতার বিচারে অদৃশ্য | আর তিনি এতই &nbsp;বিস্তৃত যে, মন বা কল্পনা দিয়েও তাঁকে উপলব্ধি করা যায় না | আবার সকল কিছুর ভিতর দিয়ে ‘ব্রহ্ম’ প্রকাশমান বলেই তিনি স্পষ্ট | তাই শুধু দৃশ্যমান বস্তু, শব্দময় সত্তা, ভাবনার দ্বারা জ্ঞাত বিষয় দিয়েও ‘ব্রহ্ম’-কে উপলব্ধির চেষ্টা করা যায় মাত্র, কিন্তু পূর্ণ’ব্রহ্ম’কে চেনা যায় না | কেন উপনিষদের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩য় সংখ্যক শ্লোকে এ বিষয়ে বলা হয়েছেঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">যস্যামতং তস্য মতং মতং যস্য ন বেদ সঃ |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">অবিজ্ঞাতং বিজানতাং বিজ্ঞাতমবিজানতাম্ ॥</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">অর্থাৎ, জ্ঞানবান ব্যক্তির কাছে তিনি অবিজ্ঞাত এবং জ্ঞানহীনের কাছে তিনি জ্ঞাত | &nbsp;ইনি ক্ষতরহিত বলেই-উপনিষদে তাঁকে অব্যয়, অক্ষয়, অক্ষর প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়েছে | ইনি পরম আরাধ্য বলেই ইনি অর্হ | &nbsp;ব্রহ্মের প্রার্থনাসূচক ধ্বনি হলো–‘ওম’ | পূজারীরা যে অর্থে বা উদ্দেশ্যেই এই ধ্বনি উচ্চারণ করে, তা ব্রহ্মের স্মরণকে বুঝায় | ইনি আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক, আধিভৌতিক দুঃখের অতীত |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন ও দ্বারকানাথের প্রচেষ্টায় ব্রাহ্মধর্ম একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় | ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত মানুষদের নিয়ে উত্তর কলকাতার অধিবাসী কমললোচন বোসের বাড়িতে ব্রাহ্মসমাজের প্রথম অধিবেশন বসে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">এই অধিবেশনে ব্রাহ্মদের জন্য একটি পৃথক ধর্মীয় সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয় এবং এই সমাজের নামকরণ করা হয়, ‘ব্রাহ্মসভা’, মতান্তরে উপাসনা সভা | কমললোচন বোসের বাড়ির সামনের দু’টি ঘর ভাড়া নিয়ে ব্রাহ্মসভার কাজ শুরু হয় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">প্রতি শনিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে ন’টা সভার কার্যকাল | দুজন তেলেগু ব্রাহ্মণ ব্যক্তি বেদ, উৎসবানন্দ বিদ্যাবাগীশ উপনিষদ পাঠ করতেন | রামচন্দ্র বৈদিক শ্লোকের ব্যাখ্যা করতেন | পরিবেশিত হতো ‘ব্রহ্ম’সংগীত | &nbsp;কলকাতার বিশিষ্ট হিন্দুরা ব্রাহ্মসভা-য় যোগদান করলেন | অর্থ সংগৃহীত হল | এক খন্ড জমি কেনা হল | নির্মিত হল ব্রাহ্মসমাজের নিজস্ব গৃহ | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১২৩৬, &nbsp;১১ মাঘ ( ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ, ২৩ জানুয়ারি) নতুন গৃহে ব্রাহ্মসমাজের কাজ শুরু হল | প্রথম প্রথম ভাদ্র মাসের সাম্বৎসরিক উৎসব হত | যা ‘ভাদ্র উৎসব’ নামে পরিচিত ছিল | প্রচুর ব্রাহ্মণ নিমন্ত্রিত হতেন | তাঁদের দক্ষিণা দান করে বিদায় দেওয়া হতো | সমস্ত খরচ সামলাতেন দ্বারকানাথ ঠাকুর , কালীনাথ আর &nbsp;মথুরানাথ |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৯ শতকের শুরুতে বাংলার সমাজজীবনে চরম দুর্দিন চলছিল | হিন্দুসমাজে তখন ব্রাহ্মণদের প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তারাই সমাজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন | হিন্দুসমাজে প্রকট জাতিভেদ প্রথা চালু ছিল | হিন্দুসমাজ ছিল ভীষণ গোঁড়া ও রক্ষণশীল | ব্রাহ্মণেরা সমাজের মধ্যমনি হয়ে থাকলেও তাঁদের মধ্যে সমাজের কুসংস্কার ও কুপ্রথার প্রচলন সবচেয়ে বেশি ছিল | সে সময়কার সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষ নানাভাবে সামাজিক বঞ্চনা ও অত্যাচারের শিকার হত, কিন্তু সমাজের কুসংস্কার ও কুপ্রথা বা নানাবিধ সামাজিক বিধিনিষেধ তাদেরকে তেমন গভীরভাবে স্পর্শ করেনি | ব্রিটিশ শাসক হিন্দু সমাজের কুপ্রথাগুলি নিয়ে প্রথমদিকে তেমনভাবে মাথা ঘামায় নি বা তারা হিন্দুদের সামাজিক জীবনে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি | কারণ, তাদের আশঙ্কা ছিল এতে হস্তক্ষেপ করলে স্থানীয় মানুষ অসন্তুষ্ট হতে পারে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">উনিশ শতকের বাংলায় সামাজিক আন্দোলনের তিনটি ধারা লক্ষ্য করা যায় | প্রথম ধারার বৈশিষ্ট্য হল প্রাচীন সনাতন হিন্দু সমাজ-ব্যবস্থাকে ধরে রাখার জন্য হিন্দুসমাজে একদল গোঁড়া ও রক্ষণশীল মানুষ উঠে পড়ে লেগেছিল | পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাবে যাতে হিন্দুদের সাবেকি সমাজব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে এবং হিন্দুসমাজের বিভিন্ন রক্ষণশীল কুপ্রথা ও নিষ্ঠুর ব্যবস্থাগুলিকে রক্ষা করতে তাঁরা সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন | তাঁরা সর্বপ্রকার সংস্কারের বিরোধী ছিলেন | আর একটি গোষ্ঠী ছিল উচ্চশিক্ষিত ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণকারী | সমাজের প্রগতিশীল এই সমস্ত ছাত্ররা হিন্দুসমাজের কুপ্রথা বা অত্যাচারের কঠোর সমালোচক ছিলেন | কিন্তু সংস্কার আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক | আর তৃতীয়টি হল এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যবর্তী কিছু স্বচ্ছ দৃষ্টি সম্পন্ন, যুক্তিবাদী, উদার ও সংস্কারপন্থী মানুষ ছিলেন | তাঁদের চিন্তাধারা ছিল বাস্তবসম্মত ও প্রগতিশীল | পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতা সম্পর্কে তাঁরা যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ছিলেন | দেশীয় সমাজ ও সভ্যতাকে তাঁরা ঘৃণার চোখে দেখতেন না | তাঁরা হিন্দুসমাজকে না ভেঙে শুধুমাত্র সমাজের দোষ-ত্রুটি ও কুপ্রথাগুলির অবসান ঘটিয়ে সমাজের মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে চেয়েছিলেন | এঁদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন অগ্রগণ্য | কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনে রাজা রামমোহন রায়ের একান্ত সহযোগী ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন নিজের চোখে দেখেছেন সহমরণ আর উপলব্ধি করেছেন সহমরণ প্রথার বলি নারীদের মৃত্যু-যন্ত্রণা | পিতার মৃত্যুর আট বছর পর ১৮১১ সালে রামমোহনের বড় ভাই জগমোহনের জীবনাবসানের পরে তাঁর বৌদির সহমরণ তাঁকে সতীদাহ-বিরোধী করে তোলে | জগমোহন তখন এক তরতাজা যুবক | স্ত্রীও যুবতী | যুবতী স্ত্রী স্বামী ছাড়া থাকবে কিভাবে, এই অজুহাতে স্বামীর সাথে তাঁকেও পুড়িয়ে মারার ব্যবস্থা করা হয় | রামমোহন তাঁর বৌদিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন | কেউ রামমোহন বা জগমোহনের স্ত্রীর পাশে দাঁড়াননি | বৌদির জ্যান্ত দগ্ধ হওয়ার দৃশ্য দেবর রামমোহনের মনে গভীর যন্ত্রনার জন্ম দেয় | তখন থেকেই সতীদাহ প্রথা বন্ধ করার মানসিকতা গড়ে ওঠে | বৌদিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্যটি নন্দকিশোর বসু তাঁর পুত্রের কাছে বর্ণনা করেন | সেই পুত্রের নাম রাজনারায়ণ বসু | তিনি রামমোহনের প্রয়াণের পরে এক স্মরণসভায় পিতার বর্ণিত কথাগুলো তুলে ধরেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">“চিতানল ধূ ধূ করিয়া জ্বলিতেছে, সহগামিনী-স্ত্রীর আর্তনাদ যাহাতে কাহারও কর্ণে প্রবিষ্ট না হয়, তজ্জন্য প্রবল উদ্যমে বাদ্যভান্ড বাজিতেছে, সে প্রাণভয়ে চিতা হইতে গাত্রোত্থান করিবার চেষ্টা করিতেছে, কিন্তু স্বজনেরা বক্ষে বাঁশ দিয়া চাপিয়া রাখিতেছে; এই সকল নির্দয় ও নিষ্ঠুর কান্ড দেখিয়া রামমোহন রায়ের চিত্তে দয়া উদ্বেলিত হইয়া উঠিল, এবং তদ্বধি তিনি প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, যে পর্যন্ত সতীদাহ প্রথা রহিত হয়, সে পর্যন্ত তাহা নিবারণের চেষ্টা হইতে তিনি কখনোই বিরত হইবেন না।”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহনের চিত্তে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প রচিত হয় ১৮২৫-এর অক্টোবরে | কলকাতায় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে | নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও সহমরণে যেতে বাধ্য করা হয় | সেই ঘটনা কলকাতার কিছু সচেতন মানুষ এবং ইংরেজদের ক্ষুব্ধ করে | এই সময় রামমোহনের অনুসারীরা এর জোরালো প্রতিবাদ করে | তখন বাংলার গভর্ণর ছিলেন, লর্ডআমহার্স্ট | তাঁর স্ত্রী ছিলেন একজন মনস্বিনী এবং সংস্কৃতিমনা | তিনিও এর প্রতিবাদ করেন | জনরোষ এড়াতে এবং একই সাথে ধর্মবিশ্বাসে আঘাত না হেনে গভর্ণর সতীদাহ প্রথা পুরোপুরি রহিত না করে কৌশলে কিছু নিয়ম চালু করলেন | এক, কোনো সহগমনার্থীনি বিধবাকে স্বামীর দেহের সঙ্গে ছাড়া অন্য কোনোভাবে দগ্ধ করা যাবে না | দুই, সহগমনার্থীনি বিধবাকে সহমরণের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এসে অনুমতি নিতে হবে | অন্যের দ্বারা দরখাস্ত দিয়ে অনুমতি নিলে চলবে না | তিন, কেউ সতীর সহমরণে সহায়তা করলে সরকারি চাকরি পাবে না | চার, সতী হওয়া রমণীর কোনো সম্পত্তি থাকলে সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করবে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">সতীদাহের বিরুদ্ধে প্রকাশিত রামমোহনের প্রথম প্রবন্ধ ‘সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের সংবাদ’ ( ১৮১৮) | সেই লেখায় তিনি সতীদাহের সমর্থক ও সতীদাহের বিরোধী উভয় মত তুলে ধরেন ও যুক্তি দিয়ে দেখালেন যে সতীদাহ শাস্ত্রসম্মত নয় এবং তাই ধর্মবিরুদ্ধ | একবছর পর প্রকাশ করলেন দ্বিতীয় প্রবন্ধ — ‘সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবর্তকের দ্বিতীয় সংবাদ |’ এইপ্রবন্ধ প্রকাশের সাথে সাথে হিন্দুসমাজ আলোড়িত হয়েছিল |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন রায় ‘কৌমুদী’ গ্রন্থে তাঁর সতীদাহ বিরোধী অবস্থান দৃঢ়তরভাবে ব্যাখ্যা করলেন | সতীদাহ প্রথা খন্ডন করে লিখলেন, ‘শাস্ত্রানুসারে সহমরণ হিন্দুবিধবাদের শ্রেষ্ঠ কর্তব্য নয়’ | সেই লেখাটি ইংরেজমহলেও প্রচারিত হতে থাকল | কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ব্রাহ্মসমাজে ভাঙ্গন শুরু হয় | যখন রামমোহন রায় সহমরণ রীতি বা সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন, তখন কেউ কেউ ব্রাহ্মসমাজ ত্যাগ করেন | তাতে সতীদাহ প্রথা নিয়ে রামমোহনের মুখ বন্ধ করা যায়নি | আসলে শুধু কথা বলা নয়, এই হত্যাপ্রথা বন্ধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন তিনি | সমাজনেতা রাধাকান্ত দেবসহ কট্টর হিন্দুজোটের তীব্র বাধা সত্ত্বেও তিনি ব্রিটিশ সরকারকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন | ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর বৃটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীতে সতীদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয় | রামমোহনের উদ্যোগে ও লর্ড বেণ্টিকের সহযোগিতায় এই আইন প্রণয়ন সম্ভব হয় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 ff2">‘It is hereby declared, that after the promulgation of this regulation, all persons convicted of aiding and abetting in the sacrifice of a Hindu widow by burning or burying her alive, whether the sacrifice be voluntary on her part or not, shall be doomed guilty of culpable homicide and shall be liable to punishment by fine or imprisonment or both by fine and imprisonment.’— Regulation of the 4th December, 1829”.</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">আইন পাশ হওয়ার পর কট্টর হিন্দুরা থেমে থাকেনি | রামমোহনের যাত্রাভঙ্গ করার জন্য ১৮৩০ সালের ১৭ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ধর্মসভা’ নামে হিন্দু ধর্মের বর্বরতা রক্ষার এক সমিতি | রাজা রাধাকান্ত দেব, রামকমল সেন, ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশ কিছু গোঁড়া হিন্দু একত্রিত হয়ে সংস্কৃত কলেজে এক সভায় হিন্দুধর্ম রক্ষার জন্য এই সংগঠনের পত্তন করেন | তাঁদের উদ্যোগে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলে সতীদাহ প্রথা রদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় | ১৮৩২ সালে প্রিভি কাউন্সিল বাংলার গভর্ণর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের ১৮২৯ সালের আদেশ বহাল রাখেন | খুব অল্পসময়ের মধ্যে ভারতের অন্যান্য কোম্পানি অঞ্চলেও সতীদাহ প্রথাকে বাতিল ঘোষণা করা হয় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">‘আত্মীয় সভা’ (১৮১৫)-র প্রতিষ্ঠাকাল থেকে রামমোহনের ইংল্যান্ড যাত্রা (১৮৩০) পর্যন্ত রামমোহনের বহু কীর্তির সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত ছিলেন দ্বারকানাথ | ‘আত্মীয় সভা’ রামমোহন রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম সংগঠন, যা তিনি ধর্ম-সংস্কারের ও সমাজ সংস্কারের মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলেন | অপৌত্তলিক, একেশ্বরবাদী ধর্মমত প্রচারের জন্য এবং সামাজিক পীড়া দূর করার জন্য রামমোহন চার ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেনঃ (ক) আলাপ-আলোচনা ও বিতর্ক, (খ) বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জ্ঞান বিতরণ, (গ) বই-পুস্তিকা পত্রিকা প্রকাশ এবং (ঘ) সংগঠন গড়ে তোলা | এই সকল কাজে যাঁদের তিনি পাশে পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দ্বারকানাথ ঠাকুর অগ্রগণ্য | ‘আত্মীয় সভা’ প্রতিষ্ঠার পর বহু মানুষ রামমোহনের সহযোগী হয়েছিলেন, কিন্তু মনের মধ্যে গোঁড়ামি থাকার ফলে সংস্কার প্রচেষ্টা শুরু হতেই অনেকেই সংশ্রব ত্যাগ করেছেন | কিন্ত, দ্বারকানাথ কখনও রামমোহনকে ত্যাগ করেন নি | ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">“দ্বারকানাথ ও রামমোহন, উভয়ের হৃদয়ের তেজস্বিতা ও স্বাধীনতা পরস্পরকে আজীবন আকৃষ্ট করিয়া রাখিয়াছিল |”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">(দ্বারকানাথ ঠাকুরের জীবনী / ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর / রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় /১৩৭৬) </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন রায় তাঁর অবিচল মনোভাব নিয়ে স্থির লক্ষ্যে এগিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ প্রতিকূলতা ও রক্ষণশীল সমাজের প্রবল বিরোধিতা উপেক্ষা করে | রামমোহনের বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় ক্রিয়াকলাপের মধ্যে যদি চারটে প্রধান বলে ধরে নেওয়া যায়, তবে সেগুলি এরকম (১) সতীদাহ বিরোধী আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়ে তুঙ্গে তুলে ধরা, যার ফলে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে বেন্টিঙ্ক-এর পক্ষে সতীদাহ-বিষয়ক আইন পাস সহজ হয়; (২) অপৌত্তলিক অর্থাৎ নিরাকার একেশ্বরবাদী ধর্মমতকে তুলে ধরা, কোনও নূতন ধর্মপ্রচার নয় বরং মূলত বৈদান্তিক বিশুদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠা এবং যার সূত্রপাত ‘আত্মীয় সভা’-র মাধ্যমে ও পরিণতি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠায় (১৮২৮ খ্রি.); (৩) আধুনিক তথা ইংরেজি শিক্ষার প্রসার এবং তার মধ্য দিয়ে দেশবাসীর চেতনার প্রসার এবং (৪) নারীজাতির সামাজিক অবস্থানের উন্নতি সাধন | এসব ক্ষেত্রে দ্বারকানাথ প্রকৃত বন্ধুর মতো তাঁর পাশে থেকেছেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহনের বাড়িতেই শুধু দ্বারকানাথ নিয়মিত আসতেন এমন নয়, মাঝে মাঝে রামমোহনও যেতেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে | জোড়াসাঁকোর জমিতেই এক নূতন ভবন নির্মাণ করিয়েছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর | প্রবীন বয়সে স্মৃতিচারণ করেছেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">“রাজা মধ্যে মধ্যে আমাদের বাটীতে আসিতেন | আমার পিতা রাজাকে অতিশয় শ্রদ্ধা করিতেন | তিনি অল্প বয়সে দেশে প্রচলিত ধৰ্ম্মে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন; কিন্তু রাজার সহিত আলাপ পরিচয় হওয়াতে প্রচলিত ধৰ্ম্মে তাঁহার অবিশ্বাস হইয়াছিল | কিন্তু রাজা যে ‘ব্রহ্ম’জ্ঞান প্রচার করিয়াছিলেন, তিনি কখনই তাহা সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করিতে পারেন নাই |”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে রামমোহন রায় শুধুমাত্র ‘আত্মীয় সভা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এমন নয়, ঐ বছর প্রকাশিত হয় তাঁর ‘বেদান্তভাষ্য’ এবং ‘বেদান্তসার’ | ‘বেদান্তসার’ বইটির ইংরেজি তর্জমা </span><span class="fs14lh1-5 ff2">‘Translation of the Abridgement of the Vedant’</span><span class="fs16lh1-5 ff1"> প্রকাশিত হয় ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে | বইটি প্রকাশের পর সমাজে আলোড়ন ওঠে | তারপর পাঁচটি উপনিষৎ তর্জমা ক’রে প্রকাশ | প্রকাশিত হয় তাঁর তার্কিক রচনাঃ উৎসবানন্দ বিদ্যাবাগীশের সহিত বিচার (১৮১৬-১৭), ভট্টাচার্যের সহিত বিচার (১৮১৭), গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮) | তবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, সহমরণ বিষয়ে প্রবর্ত্তক ও নিবর্ত্তকের সম্বাদ (১৮১৮), সহমরণ বিষয়ে প্রবর্ত্তক ও নিবর্ত্তকের দ্বিতীয় সম্বাদ (১৮১৯) এবং সেই পুস্তিকা দু’টির ইংরেজি ভাষান্তর |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন ও দ্বারকানাথের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের ব্যক্তিজীবন বিষয়ে আলোকপাত করা যাক | উত্তরাধিকার সূত্রে দ্বারকানাথ জমিদার | প্রায় ষোলো বছর বয়সে তিনি জমিদারির কার্যভার স্বহস্তে গ্রহণ করেন | কুষ্ঠিয়ার অন্তর্গত বিরাহিমপুর এবং কটকের অন্তর্গত পান্ডুয়া ও বালিয়া | পরে সাহাজাদপুর, কালীগ্রাম ইত্যাদি পরগণা দ্বারকানাথ নিজে কেনেন | জমিদারি পরিচালনা সূত্রে তিনি জমিদারি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন-কানুন বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লাভ করে একজন আইনী পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন | সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার মিঃ ফার্গুসনের কাছে আইনের পাঠ নেন | এর ফলে একদিকে তিনি বহু ভূস্বামী ব্যক্তির আইনী উপদেষ্টা হন | অন্যদিকে সরকারী মহলেও পরিচিত হন | এর ফলে ১৮১৮-তে তিনি চব্বিশ পরগণার কালেক্টরের অফিসে সেরেস্তাদার, ১৮২২ এ চব্বিশ পরগণার কালেক্টর ও নিমক মহলের অধ্যক্ষ প্লাউডেনের দেওয়ান নিযুক্ত হন | ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে শুল্ক ও অহিফেন বোর্ডের দেওয়ান হন | এইভাবে জমিদারি ছাড়াও তিনি এইসব কার্যে যুক্ত থেকে প্রভূত সম্পত্তির মালিক হন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহনের সংস্পর্শে আসার ফলে তাঁর আরো উন্নতি হয় | রামমোহনের বন্ধু উইলিয়াম অ্যাডাম, জে. বি. গর্ডন, জেমস কলডর প্রমুখের কাছ থেকে ইংরেজি ভাষার তালিম নেন দ্বারকানাথ | ‘ম্যাকিনটস কোম্পানি’র সঙ্গে তাঁর যোগের কথা উল্লেখ করা যাক | এই কোম্পানির অংশীদারগণ ম্যাকিনটস, গর্ডন, কলডর সবাই রামমোহনের বিশেষ পরিচিত | এই কোম্পানির মাধ্যমেই দ্বারকানাথের ব্যবসা-বাণিজ্যে আগ্রহ বাড়ে | ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই কোম্পানির অংশীদার হন | ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে ম্যাকিনটস কোম্পানি ও তার পরিচালনাধীন কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কের পতন ঘটে | তার আগেই ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বারকানাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক’, আর রামমোহনের মৃত্যুর পর, ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ব্যবসা বাণিজ্যে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মে ইস্তফা দেন | আর অনেক আগেই ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে, কিশোর বয়সেই যশোহরের নরেন্দ্রপুরের রামতনু রায়চৌধুরীর সুন্দরী কন্যা দিগম্বরীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল | দ্বারকানাথ-দিগম্বরীর পাঁচ পুত্র হয়, যদিও দু’জন অকালমৃত; বেঁচেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ, গিরীন্দ্রনাথ ও নগেন্দ্রনাথ | ১৮১৫-১৯ অর্থাৎ ‘আত্মীয় সভা’-র আমল থেকে রক্ষণশীল হিন্দুরা রামমোহনের উপর ক্ষিপ্ত | তাঁর নামে কুৎসা রটানো, এমনকি প্রাণনাশের চেষ্টাও হয়েছে | এই প্রসঙ্গে একটি কাহিনির উল্লেখ করেছেন ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">‘আত্মীয় সভা’য় হইত উপনিষদ পাঠ ও সঙ্গীত | যে সকল বন্ধু তাহা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছিল, জয়কৃষ্ণ সিংহ তাঁহাদের অন্যতম | তিনি বিরোধী সম্প্রদায়ের সহিত যোগদান করিয়া সৰ্ব্বত্র এই মিথ্যা অপবাদ রটনা করিয়া বেড়াইতে লাগিলেন যে, ‘আত্মীয় সভা’-য় গোবৎস হত্যা করা হয় | সেই সময়ে ইহা অনেক লোকেরই সত্য বলিয়া বিশ্বাস হইয়াছিল | আমি পিতামহদেবের (অর্থাৎ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ) নিকট শুনিয়াছি যে তিনি একবার রামমোহন রায়ের সহিত সাক্ষাৎ করিতে গিয়াছিলেন | তিনি তখন আহারে বসিয়াছিলেন | তাঁহার আহার স্থলে একমাত্র দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং তৎ-পুত্রদিগের প্রবেশের অধিকার ছিল | তিনি পিতামহদেবকে বলিলেন, “ব্রাদার, এই দেখিতেছ আমি খাইতেছি রুটী ও মধু | কিন্তু এতক্ষণে হয়তো হুলুস্থুল পড়িয়া গিয়াছে যে আমি গোমাংস খাইতেছি |’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮১৫ থেকে ১৮৩০ এর নভেম্বর পর্যন্ত রামমোহন ও দ্বারকানাথের সম্পর্ক ছিল খুব ঘনিষ্ঠ | রামমোহন ও দ্বারকানাথ উভয়েই মনে করতেন, ধর্ম-ভিত্তিক দেশজ শিক্ষা নয়, আধুনিক তথা ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তিত না হলে আমাদের দেশ কখনও আধুনিক জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে না | ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সরকার ১৭৭২ থেকে ১৮১৩ পর্যন্ত এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি | যেটুকু যা হয়েছে তা খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা | শেষপর্যন্ত বেন্টিঙ্কের আমলে ইংরেজির অনুকূলে বিষয়টির মীমাংসা হয় (১৮৩৫) | এই পরিপ্রেক্ষিতে রামমোহন দ্বারকানাথ উভয়েই ‘হিন্দু কলেজ’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে সাগ্রহে সমর্থন করেন | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন রায় ও দ্বারকানাথ ঠাকুর দু’জনেই মনে প্রাণে আধুনিক যুগের উপযোগী শিক্ষা চেয়েছিলেন | প্রকৃত পক্ষে, রামমোহন রায় এবং তার মুষ্টিমেয় সহযোগিবৃন্দ, যাঁদের মধ্যে প্রধান দ্বারকানাথ ঠাকুর, তাঁরা শুধু ইংরেজি শিক্ষা প্রচলনের ক্ষেত্রেই নয়, বহু ব্যাপারেই পথিকৃৎ | সেইজন্যই রামমোহনকে ‘ভারতীয় নবজাগরণের জনক’ বা অগ্রদূত আখ্যা দেওয়া হয় | রামমোহন দ্বারকানাথ সম্পর্কেরও গুরুত্ব এইখানেই | একটি ব্যাপারে এই দু’জন চিরস্মরণীয় এবং তা হলো ভারতে মুদ্রিত সংবাদ মাধ্যমের প্রসার, যার সঙ্গে যুক্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন এবং দ্বারকানাথ, দু’জনের কেউই কোনও পত্রিকা সম্পাদনা করেননি, কিন্তু জনমত গঠনে পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা জানতেন এবং নিজেরাই বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশে উদ্যোগ নিয়েছিলেন | রামমোহন নিজে তিনটি পত্রিকা বের করেছিলেন– বাংলায় ‘সম্বাদ কৌমুদী’, ইংরেজিতে ‘The Brahmanical Magazine’ এবং ফারসি ভাষায় ‘মিরাট-উল্-আখবার’ | সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণকারী Press Ordinance (১৮২৩)-এর প্রতিবাদে রামমোহন ‘মিরাট’ প্রকাশ বন্ধ করে দেন | দ্বারকানাথ বাংলা সাপ্তাহিক ‘বঙ্গদূত’, ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘Bengal Herald’-এর প্রকাশ করা ছাড়াও আর্থিক সাহায্য করেছিলেন </span><span class="fs14lh1-5 ff2">‘Bengal Hurkuru’, ‘India Gazette’ ও ‘The Englishman’ </span><span class="fs16lh1-5 ff1">পত্রিকাকে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">এ বিষয়ে মন্টগোমারি মার্টিন লিখেছেনঃ </span><span class="fs14lh1-5 ff2">‘...to no individual is the Indian Press under greater obligation than to the lamented Rammohun Roy and munificent Dwarkanath Tagore.’ </span><span class="fs14lh1-5 ff2">(R. Montgomery Martin/ 1834)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">আমাদের দেশে মুদ্রিত গণমাধ্যমের সূচনা ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে জেমস্ অগাস্টান হিকি-র ‘The Bengal Gazette’ প্রকাশের সময় থেকে | বাংলা ভাষায় প্রথম মাসিক পত্রিকা হলো শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান পাদ্রীদের ‘দিগদর্শন’ (১৮১৮) | তবে, প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ‘বাঙ্গাল গেজেট’, যার সম্পাদক গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এবং মালিক হরচন্দ্র রায়, উভয়েই রামমোহনের ঘনিষ্ঠ |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৭৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮২০-২২ পর্যন্ত সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের প্রসার ঘটলেও কোম্পানির সরকার সর্বদা স্বাধীন মতামত প্রকাশ পছন্দ করতেন না | বহু সম্পাদক কিংবা পত্রিকাকে ঐ যুগে লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে | কিন্তু অবস্থা চরমে পৌঁছোয় যখন ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে অস্থায়ী গভর্নর জেনারেল জন এডামস্ এক কুখ্যাত প্রেস অর্ডিনেন্স জারি করে সংবাদপত্রের, বিশেষত দেশীয় মালিকানাধীন পত্রগুলির স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করেন | এর প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন রামমোহন | তিনি একদিকে সপারিষদ ইংলণ্ডের রাজার কাছে আবেদন পাঠান এবং অন্যদিকে কোলকাতার সুপ্রিম কোর্টের কাছে এক স্মারকলিপি পেশ করেন | এই স্মারকলিপিটি স্বয়ং রামমোহন রায়ের রচনা এবং এতে রামমোহন ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগী স্বাক্ষর করেছিলেন, যার অন্যতম দ্বারকানাথ | সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য এই প্রচেষ্টা ভারতীয়দের প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর | সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে সরকারকে পাঠানো স্মারকলিপিটি যুক্তির বিন্যাসে ও ভাষার মাধুর্যে তুলনাহীন | রামমোহনের জীবনী লেখিকা কুমারী কলেট একে </span><span class="fs14lh1-5 ff2">‘Areopagitica of Indian history’ </span><span class="fs16lh1-5 ff1">বলে মন্তব্য করেছেন | এছাড়াও দ্বারকানাথকে ভারতে আধুনিক শিল্পবানিজ্যের পথিকৃৎ বলে মনে করা হয় | এ বিষয়ে প্রবন্ধকার শিবশঙ্কর সেনাপতি একটি প্রবন্ধে লিখেছেনঃ ‘ভারতে আধুনিক শিল্পবাণিজ্যের পথিকৃৎ হলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর যিনি ভারতবর্ষে ইউরোপীয় প্রযুক্তির আমদানি ঘটিয়ে আমাদের মনে লক্ষীর বরপুত্র হিসেবে মুদ্রিত আছেন |’ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">(ভারতবর্ষে ব্যাঙ্ক-বীমা ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি আধুনিক শিল্পবাণিজ্যের পথিকৃৎ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর / শিবশঙ্কর সেনাপতি / ইতিহাস দর্পণ / সম্পাদক স্বপন দাস / আগস্ট ২০২০) </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">সতীদাহ বিরোধী আন্দোলন, ব্রাহ্ম-সমাজ প্রতিষ্ঠা সহ সকল সামাজিক কাজে দ্বারকানাথকে পাশে পেয়েছেন রামমোহন | সতীদাহ নিবারণে সাফল্যের জন্য, ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দের ১০ই নভেম্বর ব্রাহ্মসমাজ হলে নাগরিকদের যে সভা হয় তাতে দ্বারকানাথ ঠাকুর সভাপতিত্ব করেন এবং বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় | সভায় রামমোহনের ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয় | উত্তরকালে দ্বারকানাথ ইংল্যাণ্ডে গেলে বেন্টিঙ্কের পত্নী তাঁকে এক পত্রে সতীদাহ-বিরোধী আন্দোলনে রামমোহন এবং তাঁর ভূমিকার জন্য সপ্রশংস উল্লেখ করেছিলেন | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">এছাড়াও, রামমোহন ও দ্বারকানাথ দু’জনেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া কারবারের বিপক্ষে এবং অবাধ বাণিজ্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে নভেম্বর ‘অ্যালবিয়ন’ নামক জাহাজে কোলকাতা থেকে রামমোহন ইংল্যান্ডে রওনা হলে, দ্বারকানাথের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় | কিন্তু তাঁদের পরস্পরের হৃদয়ের বন্ধন শিথিল হয়নি কখনো | ১৮৩৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামমোহনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শোকাহত হয়েছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর | এ বিষয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ বলেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">“যখন রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যুসংবাদ আসিল, তখন আমি আমার পিতার নিকটে ছিলাম | আমার পিতা বালকের ন্যায় ক্রন্দন করিতে লাগিলেন |”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবার ইংল্যান্ড যান দ্বারকানাথ ঠাকুর | রামমোহনের সমাধি দেখার উদ্দেশ্যে তিনি ব্রিস্টল গিয়েছিলেন | সেখানে ‘স্টেপেলটন গ্রোভ’-এ রামমোহনের সমাধি মন্দির জীর্ণ অবস্থায় দেখতে পান ও ভারতীয় রীতিতে সেটিকে রমনীয় স্মৃতিসৌধ স্থাপন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন | দ্বিতীয়বার, ইংল্যান্ড গিয়ে দ্বারকানাথ, রামমোহনের মতোই ইংল্যান্ডে দেহ রাখেন ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১লা আগস্ট |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">রামমোহন রায় এবং দ্বারকানাথ ঠাকুর এই মহাপুরুষদ্বয়ের আবির্ভাবে মধ্যবর্ত্তী কালের দুইটি মধ্যবিন্দু দেখিতে পাই—একটি, স্বাধীনতা-বিস্তার এবং দ্বিতীয়টি শৃঙ্খলা সংস্থাপন। ভারতের, অন্তত বঙ্গদেশের পক্ষে আমরা উভয় মহাপুরুষেরই জীবনে এই দুইটি মূল মন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত দেখিতে পাই। বঙ্গবাসীদিগের উপযোগী স্বাধীনতা বিস্তার ও শৃঙ্খলা-স্থাপনের মন্ত্র ভগবান উভয় মহাপুরুষকেই প্রচুর পরিমাণে দিয়া পাঠাইয়াছিলেন—বঙ্গদেশ তজ্জন্য গৌরবান্বিত হইয়াছে। এই দুই ব্যক্তিই ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের যেন মুখপত্র হইয়া জন্মিয়াছিলেন—ইহারা ভবিষ্যৎ ভারতের প্রতিনিধিস্বরূপ যেন এই দরিদ্র বঙ্গদেশে প্রেরিত হইয়াছিলেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">(দ্বারকানাথ ঠাকুরের জীবনী / ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর / রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় / ১৩৭৬)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">‘ভারতপথিক রামমোহন রায়’ গ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">নানা দুঃখে চিত্তের বিক্ষেপে </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">যাহাদের জীবনের ভিত্তি যায় বারংবার কেঁপে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">যারা অন্যমনা, তারা শোনো,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">আপনারে ভুলো না কখনো।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">মৃত্যুঞ্জয় যাহাদের প্রাণ,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">সব তুচ্ছতার ঊর্ধ্বে দীপ যারা জ্বালে অনির্বাণ, </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">তাহাদের মাঝে যেন হয় </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">তোমাদেরি নিত্য পরিচয়। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">তাহাদের খর্ব কর যদি </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">খর্বতার অপমানে বন্দী হয়ে রবে নিরবধি। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">তাদের সম্মানে মান নিয়ো</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 ff1">বিশ্বে যারা চিরস্মরণীয়।</span></div><div class="imTAJustify"><div style="text-align: start;"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"><b>ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী</b></span></div><div style="text-align: start;"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> রাষ্ট্রপতি-পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রবীন্দ্র গবেষক</span></div><div style="text-align: start;"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> || ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ || জুন ০৩, ২০২১</span></div></div></div>]]></description>
			<pubDate>Thu, 03 Jun 2021 14:11:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/photo_2021-06-03_19-50-34_thumb.jpg" length="41237" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?---------------------------------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/000000012</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ও ভগিনী নিবেদিতা]]></title>
			<author><![CDATA[ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%93_%E0%A6%AD%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%80_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE"><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ও ভগিনী নিবেদিতা]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_000000011"><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ (৭ মে, ১৮৬১ - ৭ আগস্ট, ১৯৪১), ভগিনী নিবেদিতার (২৮ অক্টোবর, ১৮৬৭ – ১৩ অক্টোবর, ১৯১১) চেয়ে ৬ বছরের বড়ো। প্রথম দর্শনেই কবির চেহারা ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছেন নিবেদিতা। নিবেদিতা-র ভারত-সেবায় মুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘লোকমাতা’ বলে সম্বোধন করেছেন। মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ১৮৯৫ সালের ১৩ নভেম্বর লন্ডনে লেডি ইসাবেল মর্গেসন-এর বাড়িতে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ হন, এরপর আরো কয়েকটি বক্তৃতা শুনে, নানান প্রশ্নের সদুত্তর পেয়ে স্বামীজী-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করার জন্য মনস্থির করেন। ইউরোপ উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজ ১৮৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি কলকাতা বন্দরে এসে পৌঁছোলো, মার্গারেট দেখলেন স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ (১২ জানুয়ারি, ১৮৬৩ – ৪ জুলাই, ১৯০২) তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে জেটিতে অপেক্ষা করছেন। ঐ বছর ২৫ মার্চ স্বামীজী মার্গারেট-কে ব্রহ্মচর্যে দীক্ষিত করেন ও তাঁর নামকরণ করেন ‘নিবেদিতা’, অর্থাৎ ঈশ্বরে নিবেদিত। ১৮৯৬ সালের মে মাসে প্লেগ মহামারীর রূপ নেয়। সাধারণ মানুষকে এই সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে ও আক্রান্ত রুগীদের সেবা করতে নিবেদিতা সম্পূর্ণভাবে নিজেকে যুক্ত করলেন। তাঁর এই কাজে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্রনাথের জীবনীকার এডওয়ার্ড টমসন লিখছেনঃ ‘That year (1898) plague broke out in Calcutta. She (Sister Nivedita) organised relief work, assisted by (Rabindranath) Tagore’. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ আগস্ট, ১৮৭১- ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫১) স্মৃতিচারণ করেছেনঃ ‘সেই সময় কলকাতায় লাগল প্লেগ। চারদিকে মহামারী চলছে, ঘরে ঘরে লোক মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। রবিকাকা এবং আমরা এবাড়ির সবাই মিলে চাঁদা তুলে প্লেগ হাসপাতাল খুলেছি, চুন বিলি করেছি। রবিকাকা ও সিস্টার নিবেদিতা পাড়ায় পাড়ায় ইনস্পেকশন-এ যেতেন’।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">১৮৯৮ সালের ১৩ নভেম্বর নিবেদিতা কলকাতার বাগবাজারে মেয়েদের শিক্ষার জন্য একটি স্কুল খোলেন। নারীশিক্ষার প্রসারে নিবেদিতা যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেন সেগুলির সার্থক রূপায়ণে তিনি যাঁদের সহযোগিতা পেয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ অন্যতম। আরো একজনের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য, তিনি স্যার জগদীশচন্দ্র বসু (৩০ নভেম্বর, ১৮৫৮ – ২৩ নভেম্বর, ১৯৩৭)। স্কুল খোলার পর বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ও বেলুড় মঠের নব দীক্ষিতদের শিক্ষার কাজে নিযুক্ত থেকেছেন নিবেদিতা। একই সময়ে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মসমাজে ‘শিক্ষা’ সম্বন্ধে বক্তৃতা দিতেন নিবেদিতা। ঐ বক্তৃতা শোনার জন্য উপস্থিত থাকতেন শিক্ষিত ব্রাহ্ম মহিলারা, যাঁরা স্ত্রীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন যেমন কেশবচন্দ্র সেনের (১৯ নভেম্বর, ১৮৩৮ – ৮ জানুয়ারি, ১৮৮৪) মেয়ে সুনীতি দেবী ও সুচারু দেবী, রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ও ভাগনী সরলা ঘোষ, জগদীশচন্দ্রের বোন লাবণ্যপ্রভা বসু প্রমুখ।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ব্রাহ্মসমাজে যাতায়াতের ফলে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নিবেদিতার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার বিষয়ঃ ধর্ম, নারীশিক্ষা, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ইত্যাদি গান ও কবিতা আবৃত্তি। কখনো কখনো রবীন্দ্রনাথ বাগবাজারে নিবেদিতার বাড়িতেও যেতেন। ‘গানের আলোয় আর আনন্দের হাওয়ায় সে-ঘর যেন প্রাসাদের মতো গমগমে হয়ে ওঠে’। রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে বাংলা কাব্য-সংগীতের মাধুরী পান করতে করতেই নিবেদিতা এক বছরে বাংলা ভাষা-সাহিত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠেন। ৪ জানুয়ারি, ১৮৯৯ বান্ধবী হ্যামণ্ডকে লেখেনঃ ‘I am finding great riches in Bengali’. রবীন্দ্রনাথ, ঠাকুর পরিবার কিম্বা ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে নিবেদিতার ঘনিষ্ঠতা থাকলেও নিবেদিতা কখনো স্বামীজীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। লিজেল রেমঁ সে ঘটনার উল্লেখ করেছেন। একদিন রবীন্দ্রনাথ ও নিবেদিতার একটি বিষয়ে গভীর আলোচনা চলছিল। এমন সময় খবর এলো বেলুড় থেকে স্বামীজী নিবেদিতাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। নিবেদিতা রবীন্দ্রনাথকে বললেনঃ ‘স্বামীজীর আশীর্বাদ অনুক্ষণ আমায় ঘিরে আছে। এক্ষুনি আমায় যেতে হবে’ বলে তিনি তৎক্ষণাৎ সেই স্থান ত্যাগ করলেন। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">স্বামীজীর প্রতি একান্ত অনুরক্ত নিবেদিতা তবে কেন ব্রাহ্মধর্মের সঙ্গে বা ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে এমন গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, এই প্রশ্ন এসেই যায়। কারণ, ব্রাহ্মধর্মের মূল কথা হলো নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা আর শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন সাকার দেবতার উপাসক। স্বামীজীর শিষ্যা নিবেদিতা তবে কি কারণে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে এমন সম্পর্ক স্থাপনের সাহস পেলেন? গবেষকরা বলছেন সেই সময় কলকাতার শিক্ষিত সমাজের বড়ো অংশ ব্রাহ্ম-মনোভাবাপন্ন। নিবেদিতা উপলব্ধি করেছিলেন দেশীয় সমাজে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রভাব ছড়াতে গেলে ইউরোপীয় শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালি যুবসমাজকে প্রভাবিত করার বিশেষ প্রয়োজন। তাছাড়া ব্রাহ্মদের প্রভাবিত করার ব্যাপারে নিবেদিতার এই আবেগ তাড়িত ভাবনা স্বামীজীর তাৎক্ষণিক অনুমোদন পেয়েছিল। স্বামীজী নিবেদিতাকে বলেছিলেনঃ ‘Make Inroads into the Brahmos’. রবীন্দ্রনাথ ও স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে ধর্ম ও রাজনৈতিক দর্শন বিষয়ে মতান্তর ছিলো। নিবেদিতা তা জানতেন। তিনি চেষ্টা করেছেন উভয়কে খুব কাছাকাছি আনতে। ১৮৯৯ সালের ২৮ জানুয়ারি এক ঘরোয়া আলাপচারিতার পরিবেশে নিবেদিতা মুখোমুখি আনতে পেরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও বিবেকানন্দকে। সেই চা-পানের আসরে উপস্থিত ছিলেন সস্ত্রীক জগদীশচন্দ্র বসু, সস্ত্রীক ড. প্রসন্ন কুমার রায়, মোহিনী মোহন চট্টোপাধ্যায়, সরলা ঘোষাল, স্বর্ণকুমারী দেবী প্রমুখ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ আলবার্ট হলে নিবেদিতা তাঁর বহু আলোচিত ‘Kaliworship’ বিষয়ক বক্তৃতা দেন। সেই সভায় ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার, ডাঃ নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়, ব্রজেন্দ্রনাথ গুপ্ত, মিসেস সালজার, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সরলা ঘোষাল প্রভৃতি উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে ধর্মীয় মত ও পথ কিম্বা রাজনৈতিক আদর্শের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও উভয়ে উভয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। নিবেদিতা স্বামীজীর শিষ্যা, গুরু হিসেবে মেনেছেন স্বামীজী-কে আজীবন। আবার, রবীন্দ্রনাথের পরিশীলিত আভিজাত্য, পাশ্চাত্য আদব-কায়দা ও শিক্ষিত বৈদগ্ধ্যের মধ্যে আইরিশ বুদ্ধিজীবী মার্গারেট বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। নিবেদিতা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনঃ ‘বস্তুত তিনি ছিলেন লোকমাতা। যে মাতৃভাব পরিবারের বাহিরে একটি সমগ্র দেশের উপরে আপনাকে ব্যাপ্ত করিতে পারে তাহার মূর্তি তো ইতিপূর্বে আমরা দেখি নাই। এ সম্বন্ধে পুরুষের যে কর্তব্যবোধ তাহার কিছু কিছু আভাস পাইয়াছি, কিন্তু রমণীর যে পরিপূর্ণ মমত্ববোধ তাহা প্রত্যক্ষ করি নাই। তিনি যখন বলিতেন our people তখন তাহার মধ্যে যে একান্ত আত্মীয়তার সুরটি লাগিত আমাদের কাহারও কণ্ঠে তেমনটি তো লাগে না। ভগিনী নিবেদিতা দেশের মানুষকে যেমন সত্য করিয়া ভালোবাসিতেন তাহা যে দেখিয়াছে সে নিশ্চয়ই ইহা বুঝিয়াছে যে, দেশের লোককে আমরা হয়তো সময় দিই, অর্থ দিই, এমন-কি, জীবনও দিই কিন্তু তাহাকে হৃদয় দিতে পারি নাই—তাহাকে তেমন অত্যন্ত সত্য করিয়া নিকটে করিয়া জানিবার শক্তি আমরা লাভ করি নাই’।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ্ রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় (২৯ মে, ১৮৬৫ - ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩), রবীন্দ্রনাথ-জগদীশচন্দ্র বসু-নিবেদিতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকার সম্পাদক, নিবেদিতা সম্পর্কে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় লিখেছেনঃ ‘ইউরোপীয় বংশসম্ভূত যত লোকের কথা আমরা অবগত আছি, তাঁহাদের মধ্যে কেহই ভারতবর্ষকে ভগিনী নিবেদিতা অপেক্ষা অধিক প্রীতি ও ভক্তি করিতেন না। তিনি ভারতভূমিকেই নিজ মাতৃভূমিস্থানে বরণ করিয়াছিলেন। তিনি বিবেকানন্দ স্বামীর শিষ্যা ছিলেন। ভারতবর্ষের কল্যাণের জন্য তিনি প্রভূত পরিশ্রম করিতেন। ভারতবাসীরা সর্বপ্রকারে উন্নত, একজাতিত্বসূত্রে বদ্ধ ও শক্তিশালী হইয়া পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে উচ্চ আসন লাভ করে, ইহা তাঁহার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল। এই ইচ্ছা ফলবতী করিবার জন্য তিনি সর্বদা চেষ্টা করিতেন। নারীর শিক্ষা ও জনসাধারণের শিক্ষা ভারতবর্ষের মঙ্গলকর সকল চেষ্টার ভিত্তি বলিয়া তিনি মনে করিতেন। তিনি স্বাধীনচিত্ত, প্রতিভাশালিনী ও শক্তিশালিনী লেখিকা ছিলেন। অনেক বিধবা ও অনাথ বালক-বালিকাকে তিনি পালন করিতেন। অনেককে শিক্ষা দিতেন। বিশ্বজননী তাঁহাকে শক্তি ও শান্তি প্রদান করুন’।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">(ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী, রাষ্ট্রপতি-পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রবীন্দ্র গবেষক / এপ্রিল ২০, ২০২১)</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Wed, 28 Apr 2021 15:26:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/176021855_975228066550563_432818696397712597_n_thumb.jpg" length="21338" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?-----------------------------1</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/000000011</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[রাজনারায়ণ বসু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ]]></title>
			<author><![CDATA[ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0"><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_000000010"><div class="imTACenter"><span class="imUl fs16lh1-5 cf1 ff1"><b>রাজনারায়ণ বসু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর </b></span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">উনিশ শতকে ভারতীয় নবজাগরণের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বদেশ চেতনা। স্বদেশ চেতনার প্রসারে অগ্রগণ্য ভূমিকা ছিল রাজনারায়ণ বসুর (১৮২৬-১৮৯৯)। সে যুগে রাজনারায়ণ বসু সম্পর্কে বলা হতো 'Grand Father of Indian Nationalism'। রাজনারায়ণ বসু ছিলেন একজন ঔপনিষদিক, ব্রহ্মবাদে বিশ্বাসী, ঋষিতুল্য মানুষ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন ব্রহ্ম-এক, অদ্বিতীয় ও অনন্তস্বরূপ। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে এসে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণে তিনি বেশি করে উদ্বুদ্ধ হন। ১৮৪৬ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন। &nbsp;ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পরে ঠাকুর পরিবারের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। রাজনারায়ণ, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে উপনিষদের পাঠ নেন ও ঈশ, কেন, কঠ, মুন্ডক শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ইংরেজি অনুবাদ করেন, যা তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রাজনারায়ণ বসু হিন্দু কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ইংরেজি ভাষায় তাঁর প্রগাঢ় পান্ডিত্য ছিলো। দেবেন্দ্রনাথ, রাজনারায়ণ-কে 'ইংরেজী খাঁ' উপাধি দিয়েছিলেন। রাজনারায়ণ বসুর কাছ থেকে ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ, মদনমোহন তর্কালঙ্কার ও রামগতি ন্যায়রত্নের মতো সংস্কৃত ভাষার পণ্ডিতগণ। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ঠাকুরবাড়ির গণেন্দ্রনাথ (১৮৪১-৬৯) যিনি গিরীন্দ্রনাথের পুত্র, নবগোপাল মিত্র (১৮৪০-১৮৯৪) ও রাজনারায়ণ বসুর উদ্যোগে 'হিন্দু মেলা'র প্রথম অধিবেশন হয় ১৮৬৭ সালের চৈত্র সংক্রান্তিতে। তখন রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) বয়স মাত্র ৬। কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের আত্মপ্রকাশ ঘটে হিন্দু মেলার নবম অধিবেশনে (১১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৫)। এই নবম অধিবেশনে পঠিত 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতা কবির নাম-যুক্ত প্রথম মুদ্রিত কবিতা। অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ (১৮৪৯-১৯২৫) ১৮৭৬ সালে রাজনারায়ণ বসু কে সাথে নিয়ে যখন 'সঞ্জীবনী সভা' নামক গুপ্ত সমিতি তৈরি করেন, তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ১৫ ও রবীন্দ্রনাথ এই গুপ্ত সমিতিতে যুক্ত হয়ে যান। সঞ্জীবনী সভার জন্য তিনি 'এক সূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন...' গান রচনা করেন। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">কেশবচন্দ্র সেনের (১৮৩৮-১৮৮৪) দেহত্যাগের পর ব্রাহ্মসমাজে যখন &nbsp;মতাদর্শগত বিরোধ তৈরি হয়, তখন রাজনারায়ণ রবীন্দ্রনাথের পক্ষে কথা বলেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রাজনারায়ণ বসু সংস্কৃত কলেজে ইংরেজিতে অধ্যাপনার কাজ ছেড়ে দিয়ে &nbsp;১৮৫১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মেদিনীপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে কলেজিয়েট স্কুল) প্রধান শিক্ষকতার কাজে যোগদান করেন। ১৮৬৬ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত ঐ স্কুলে প্রধান শিক্ষকতার কাজ করেছেন, দক্ষতার সঙ্গে। অসুস্থতার কারণে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ছাড়লেও আরো তিন বছর তিনি মেদিনীপুর শহরে কাটিয়েছেন। মেদিনীপুর শহরে অবস্থানকালে মেদিনীপুর জেলা স্কুলের উন্নতি ছাড়াও তিনি স্থাপন করেছিলেন একটি বালিকা বিদ্যালয় (বর্তমানে ঋষি রাজনারায়াণ বসু বালিকা বিদ্যালয়), একটি সাধারণ পাঠাগার (বর্তমানে রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগার)। এছাড়াও তৈরি করেছিলেনঃ 'সঙ্গতসভা', 'ধর্মালোচনা সভা', 'বিতর্ক সভা', 'সাহিত্য উৎসাহিনী সভা', 'সুরাপান নিবারণী সভা'। ১৮৬৪ সালে ব্রাহ্ম ধর্মের বিধান অনুসারে তাঁর কন্যা স্বর্ণলতা দেবীর সাথে বিবাহ হয় কৃষ্ণধন ঘোষের সঙ্গে। মেদিনীপুর জেলা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই বিবাহ অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, আচার্য ছিলেন কেশবচন্দ্র সেন। এই বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">বাল্যকালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনারায়ণ বসুর সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিত্বে ও পান্ডিত্যে মুগ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘদিন সেই সম্পর্ক তিনি অক্ষুন্ন রেখেছেন। এমনকি ১৮৭৯ সালে রাজনারায়ণ বসু দেওঘরে বসবাসের উদ্দেশ্যে চলে যাওয়ার পরও রবীন্দ্রনাথ দেওঘরে গেছেন, তাঁর সাথে দেখা করতে। রাজনারায়ণ বসু তাঁর ডায়েরীর পাতায় ১৮৮৫ সালের ১৭ আগস্ট লিখেছেনঃ "অদ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলিকাতা হইতে আইসেন তাহাতে মহা আনন্দের উদয় হয়। কল্য কি বিষাদের দিন ছিল! অদ্য কি আনন্দ! রবীন্দ্রনাথ তাঁহার রচিত কয়েকটি গীত আমাদিগকে শুনাইলেন। ইনি চমৎকার গান করেন"। রবীন্দ্রনাথ রচিত কয়েকটি গান যেমন 'আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে...', 'সত্যমঙ্গল প্রেমময় তুমি...', 'পাদপ্রান্তে রাখ সেবকে...' রাজনারায়ণের খুব প্রিয় গান।রবীন্দ্রনাথ ও রাজনারায়ণ বসুর প্রতি ছিলেন ভীষণভাবে শ্রদ্ধাশীল। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনঃ "...একদিকে তিনি আপনার জীবন এবং সংসারটিকে ঈশ্বরের কাছে সম্পূর্ণ নিবেদন করিয়া দিয়াছিলেন, আর একদিকে দেশের উন্নতি সাধন করিবার জন্য তিনি সর্বদাই কতরকমের সাধ্য ও অসাধ্য প্ল্যান করিতেন তাহার অন্ত নাই"। ১৮৯৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজনারায়ণ বসু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শেষ ইচ্ছানুসারে তাঁর পুত্র-কন্যা-পৌত্র-দৌহিত্র-দৌহিত্রী মিলে রবীন্দ্রনাথ রচিত এই গানটি গেয়ে তাঁর শান্তি কামনা করেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> "মিটিল সব ক্ষুধা, &nbsp;&nbsp;&nbsp;তাঁহার প্রেমসুধা, &nbsp;&nbsp;&nbsp;চলো রে ঘরে লয়ে যাই। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সেথা যে কত লোক &nbsp;&nbsp;&nbsp;পেয়েছে কত শোক, &nbsp;&nbsp;&nbsp;তৃষিত আছে কত ভাই।। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ডাকো রে তাঁর নামে &nbsp;&nbsp;&nbsp;সবারে নিজধামে, &nbsp;&nbsp;&nbsp;সকলে তাঁর গুণ গাই। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">দুখি কাতর জনে &nbsp;&nbsp;&nbsp;রেখো রে রেখো মনে, &nbsp;&nbsp;&nbsp;হৃদয়ে সবে দেহো ঠাঁই।। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সতত চাহি তাঁরে &nbsp;&nbsp;&nbsp;ভোলো রে আপনারে, &nbsp;&nbsp;&nbsp;সবারে করো রে আপন। </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">শান্তি-আহরণে &nbsp;&nbsp;&nbsp;শান্তি বিতরণে, &nbsp;&nbsp;&nbsp;জীবন করো রে যাপন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এত যে সুখ আছে &nbsp;&nbsp;&nbsp;কে তাহা শুনিয়াছে ! &nbsp;&nbsp;&nbsp;চলো রে সবারে শুনাই।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">বলো রে ডেকে বলো &nbsp;&nbsp;&nbsp;‘পিতার ঘরে চলো, &nbsp;&nbsp;&nbsp;হেথায় শোকতাপ নাই’।।"</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">(ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী, রাষ্ট্রপতি-পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রবীন্দ্র গবেষক/এপ্রিল ১৬, ২০২১)</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Wed, 28 Apr 2021 15:00:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/photo_2021-04-28_20-54-54_thumb.jpg" length="33133" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?-----------------------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/000000010</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[রামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ]]></title>
			<author><![CDATA[ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5_%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0"><![CDATA[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_00000000F"><div class="imTACenter"><span class="imUl fs16lh1-5 cf1 ff1"><b>রামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ</b></span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ (১৮৩৬ – ১৮৮৬) ও রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১ – ১৯৪১) এই দুই যুগপুরুষের মানসভূমিতে তাঁদের ব্যক্তিসত্তার অনুসন্ধান, কিম্বা, দু’জনে পরস্পরের সাথে কতখানি সম্পৃক্ত-অসম্পৃক্ত তা পর্যালোচনা করা এই নিবন্ধকারের অভীষ্ট নয় | তাঁদের নিজ নিজ মানসভূমিতে একটি অনুসন্ধানের চেষ্টা, সেই সত্তাকে, যেখানে উভয়ে এক গোত্রীয়—উভয়েই লোক শিক্ষক | উভয়ে কবি—একজন কবি-সাধক, অন্যজন সাধক-কবি, উভয়ে স্রষ্টা—একজন শিল্প ও সাহিত্যের, অন্যজন শিবজ্ঞানে জীবসেবার, উভয়ে দ্রষ্টা—সত্যের ও ত্রিকালের, উভয়ে সাধক—একজন সত্য ও সুন্দরের, অন্যজন সত্য ও সুন্দরের প্রতিমূর্তি সাকার ঈশ্বরের | উভয়েই একই পুকুরের দুই ভিন্ন ভিন্ন ঘাটের জল সংগ্রহকারী | একজন চেয়েছিলেন সীমার মাঝে অসীমকে উপলব্ধি করতে, অন্যজন চেয়েছিলেন মৃন্ময় সত্তাকে চিন্ময়ী সত্তারূপে কাছে পেতে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ—এই দুই যুগপুরুষ অনেকদিক থেকেই ব্যতিক্রমী | রামকৃষ্ণের মুখের ভাষা ও ব্যবহৃত উপমা সাবলীল ও বলিষ্ঠ, সহজ-সরল | সহজেই স্পর্শ করে যেকোনো মেধাকে | উপমা প্রয়োগে উপমেয় হয় স্পষ্টতর | রবীন্দ্রনাথের মুখের কথা কিম্বা লেখার ভাষা মেধা নিরপেক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি, এমন মত প্রকাশ করার দুঃসাহস আমার নেই | তবে তাঁর অতীন্দ্রিয় বোধের প্রকাশ যেখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে, সেখানে ভাব ব্যাপক ও গভীর, ও তা স্পর্শ করে মেধা, প্রজ্ঞা ও সংস্কারমুক্ত মনন-কে | জগৎ ও জীবনকে উপলব্ধি করার দ্যোতক রামকৃষ্ণের কাছে-‘ঈশ্বর’ লাভ, আর রবীন্দ্রনাথের কাছে-‘সৎ’-‘চিৎ’-‘আনন্দ’ | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ পর্যালোচনায় রয়েছে দু’টি বৃত্ত | একটি বৃত্তের পরিধি ১৮৬১ থেকে ১৮৮৬‌, দীর্ঘ ২৫ বছর, যেখানে রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ উভয়েই রয়েছেন স্থূলদেহে এই সুন্দর পৃথিবীতে | অপর বৃত্তের পরিধি ১৮৮৬ থেকে ১৯৪১-দীর্ঘ ৫৫ বছর, যেখানে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব স্থূলদেহ ত্যাগ করলেও রবীন্দ্রনাথ রয়েছেন ‘জগতের আনন্দযজ্ঞে’ ও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মে এসেছে রামকৃষ্ণ-প্রসঙ্গ | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন ঠাকুরবাড়িতে | রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ৫ | শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত-গ্রন্থে তার উল্লেখ আছেঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘একদিন ধরে বসলুম, দেবেন্দ্র ঠাকুরের বাড়ি যাব। সেজোবাবুকে বললুম, দেবেন্দ্র ঈশ্বরের নাম করে, তাকে দেখব, আমাকে লয়ে যাবে? সেজোবাবু-তার আবার ভারী অভিমান, সে সেধে লোকের বাড়ি যাবে? এগু-পেছু করতে লাগল। তারপর বললে, হাঁ, দেবেন্দ্র আমি একসঙ্গে পড়েছিলুম, তা চল বাবা, নিয়ে যাব। ...দেবেন্দ্র ভালো লোক...কিন্তু যারা সংসারে না ঢুকিয়া ছেলেবেলা থেকে শুকদেবাদির মতো অহর্নিশ ঈশ্বরের চিন্তা করে, কৌমার বৈরাগ্যবান, তারা ধন্য। ...যখন সেজোবাবুর সঙ্গে ওর বাড়িতে গেলাম, দেখলাম ছোট ছোট ছেলে অনেক—ডাক্তার এসেছে, ঔষধ লিখে দিচ্ছে।’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">উল্লেখিত মেজোবাবু মথুরামোহন বিশ্বাস, যিনি জয়নারায়ণ বিশ্বাসের কনিষ্ঠপুত্র ও দেবেন্দ্রনাথের সহপাঠী | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ-দেবেন্দ্র মিলন প্রসঙ্গে ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত’ গ্রন্থে রামকৃষ্ণ বলেছেন—</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘অনেক কথাবার্তার পর দেবেন্দ্র খুশি হয়ে বললে, “আপনাকে উৎসবে (ব্রাহ্মোৎসব) আসতে হবে।” আমি বললাম, “সে ঈশ্বরের ইচ্ছা; আমার তো এই অবস্থা দেখছ! —কখন কিভাবে তিনি রাখেন।” দেবেন্দ্র বললে, “না আসতে হবে; তবে ধুতি আর উড়ানি পরে এসো—তোমাকে এলোমেলো দেখে কেউ কিছু বললে, আমার কষ্ট হবে।” আমি বললাম, “তা পারব না। আমি বাবু হতে পারব না।” দেবেন্দ্র, সেজোবাবু সব হাসতে লাগল।’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">শান্তিনিকেতন থেকে ৫ অগ্রহায়ণ ১৩৩৬, বৃহস্পতিবার, রবীন্দ্রনাথ রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়-কে একটি চিঠি লেখেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘শ্রদ্ধাস্পদেষু,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ পরমহংস যেদিন আমাদের বাড়িতে পিতৃদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন সেদিন আমি বাড়িতে ছিলাম কিন্তু তাঁদের পরস্পরের সাক্ষাৎকারের স্থলে উপস্থিত ছিলাম না। নিবেদিতার মুখের ভাবে অনুভব করেছিলুম তিনি সন্তুষ্ট হন নি। তিনি পরমহংসদেবকে যথোচিত শ্রদ্ধা করেন নি সেটা অসম্ভব নয। কেননা তিনি একেবারেই বিগ্রহ মানতেন না, এবং উপনিষদের অনুশাসন অনুসারে তাঁর চিরজীবনের সাধনা ছিল শান্ত সমাহিত আত্মসংযতভাবের।...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ-রামকৃষ্ণের প্রত্যক্ষ মিলন ঘটেছিল ২ মে, ১৮৮৩ (২০ বৈশাখ, ১২৯০) বুধবার কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে | শ্যামবাজারের নন্দনবাগানের ব্রাহ্মসমাজের সাংবাৎসরিক উৎসবে | রামকৃষ্ণের বয়স তখন ৪৭, আর রবীন্দ্রনাথ ২২ অতিক্রান্ত যুবক | এই দিনের বর্ণণায় কথামৃতকার লিখেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজ-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। ব্রাহ্মভক্তদের সহিত কথা কহিতেছেন। সঙ্গে রাখাল, মাস্টার প্রভৃতি আছেন। বেলা পাঁচটা হইবে।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">কাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি নন্দনবাগানে তিনি পূর্বে সদরওয়ালা ছিলেন। আদি ব্রাহ্মসমাজভুক্ত ব্রাহ্মজ্ঞানী। তিনি নিজের বাড়িতেই দ্বিতলায় বৃহৎ প্রকোষ্ঠ মধ্যে ঈশ্বরের উপাসনা করিতেন, আর ভক্তদের নিমন্ত্রণ করিয়া মাঝে মাঝে উৎসব করিতেন, তাঁহার স্বর্গারোহণের পর শ্রীনাথ, যজ্ঞনাথ প্রভৃতি তাঁহার পুত্রগণ কিছুদিন ওইরূপ উৎসব করিয়াছিলেন। তাঁহারাই ঠাকুরকে অতি যত্ন করিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া আনিয়াছেন।’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ঠাকুর প্রথমে আসিয়া নিচে একটি বৈঠকখানা ঘরে আসন গ্রহণ করিয়াছিলেন | সে ঘরে ব্রাহ্মভক্তগণ ক্রমে ক্রমে আসিয়া একত্রিত হইয়াছিলেন | শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র (ঠাকুর) প্রভৃতি ঠাকুরবংশের ভক্তগণ এই উৎসব ক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সেদিনের ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে ‘The Statesman’ ইংরেজি সংবাদপত্রেঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘CALCUTTA</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">The Shambazar Brahmo Somaj</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">This Somaj celebrated its 20th anniversary at the residence of Baboo Srinath Mitra and brothers in North Circular Road on Wednesday last. The prayer-hall was modestly and tastefully decorated with flowers and evergreens. From early morning hymns were sung till 7 when divine service commenced. In the afternoon Ramkrishna Paramahansa, the sage of Dukhineswar, discoursed on morality and religion. The evening service commenced at 7.30, The Pundit Sibnath Sastri M.A., and Baboo B.C. Banerjee officiating. The choir was led by Baboo Rabindra Nath Tagore.’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এই ঘটনার পর রামকৃষ্ণ স্থূলদেহে ছিলেন আর ৩ বছর ৩ মাস ১০ দিন | কিন্তু এই সময়কালের মধ্যে রামকৃষ্ণ-রবীন্দ্রনাথ মিলনের আর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি | তবে প্রথম বৃত্তের কালপর্বে রামকৃষ্ণ রবীন্দ্রনাথের গান শুনেছেন, নরেন্দ্রনাথ তথা স্বামী বিবেকানন্দের কন্ঠে | রামকৃষ্ণ-কে নরেন্দ্রনাথ শুনিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের লেখা ছয়টি গান |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">১.</span><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> ‘গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বলে,...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">নরেন্দ্রনাথ-এর কন্ঠে দু’বার শুনেছেন রামকৃষ্ণ | প্রথমবার ২৫ চৈত্র, ১২৮৯ (৭ এপ্রিল, ১৮৮৩), দ্বিতীয়বার ২৭ বৈশাখ, ১২৯২ (৯ মে, ১৮৮৫)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">২. </span><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘দিবানিশি করিয়া যতন...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">নরেন্দ্রনাথ-এর কন্ঠে একবার শুনেছেন এই গান রামকৃষ্ণ, ৩০ ভাদ্র, ১২৯১ (১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৪)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৩. </span><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘দুখ দূর করিলে, &nbsp;&nbsp;দরশন দিয়ে...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এইগান রামকৃষ্ণ দুবার শুনেছেন নরেন্দ্রনাথের কন্ঠে, ২৯ ফাল্গুন, ১২৯১ (১১ মার্চ, ১৮৮৫) ও ৬ বৈশাখ, ১২৯৩ (১৮ এপ্রিল, ১৮৮৬) </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৪. </span><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">দু’বার শুনেছেন রামকৃষ্ণ, ৩১ আষাঢ়, ১২৯২ (১৪ জুলাই, ১৮৮৫), ও ৯ কার্তিক, ১২৯২ (২৪ অক্টোবর, ১৮৮৫) </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৫. </span><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘মহাসিংহাসনে বসি &nbsp;&nbsp;শুনিছ, হে বিশ্বপিত,...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">একবার শুনেছেন রামকৃষ্ণ নরেন্দ্রনাথ-এর কন্ঠে, ৯ কার্তিক, ১২৯২ (২৪ অক্টোবর, ১৮৮৫) </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৬. </span><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘একি এ সুন্দর শোভা!...’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">গানটি নরেন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন ১২ কার্তিক, ১২৯২ (২৭ অক্টোবর, ১৮৮৫) মঙ্গলবারে, শ্যামপুকুর বাটিতে | রামকৃষ্ণ তখন অসুস্থ, চিকিৎসা চলছে | গান শুনে রামকৃষ্ণের প্রতিক্রিয়ার কথা লিখছেন কথামৃতকারঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> ‘তিনি (রামকৃষ্ণ) গভীর ভাব সমাধিতে মগ্ন হইলেন। শরীর স্পন্দহীন, নয়ন স্থির। অবাক্! কাষ্ঠপুত্তলিকার ন্যায় উপবিষ্ট। বাহ্যশূন্য! মন বুদ্ধি অহংকার চিত্ত সমস্তই অন্তর্মুখ। আর সে মানুষ নয়। নরেন্দ্রের মধুর কণ্ঠে মধুর গান চলিতেছেঃ এ কি এ সুন্দর শোভা...’।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">দ্বিতীয় বৃত্তের কালপর্ব ১৮৮৬র ১৬ আগস্ট থেকে ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত | ১৮৮৬ থেকে ১৯০৮, ২২ বছরের এই কালপর্বে রবীন্দ্র সৃষ্টিকর্মে রামকৃষ্ণ প্রসঙ্গ প্রত্যক্ষত না থাকলেও বিবেকানন্দ, নিবেদিতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন সাক্ষাতে রামকৃষ্ণ ভাব-আন্দোলনের বৃত্তে বারবার দেখতে পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথকে | সে ইতিহাস দীর্ঘ | উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে—১৯০২ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুলাই (২০ আষাঢ়, ১৩০৯) শুক্রবারে বিবেকানন্দের প্রয়াণের পর ২৮ আষাঢ়, শনিবারে, সাউথ সুবার্বান স্কুলে যে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে রবীন্দ্রনাথ সভাপতির ভাষণ দেন | ১৫ জুলাই (৩১ আষাঢ়) মঙ্গলবারে সেই বিবরণ প্রকাশিত হয় ‘The Bengalee’ পত্রিকায় | ১৩ অক্টোবর, ১৯০৪ (২৭ আশ্বিন, ১৩১১) বৃহস্পতিবারে গয়ার বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী সভায় রবীন্দ্রনাথ উপস্থিত হয়েছিলেন | সে সংবাদ ‘The Bengalee’ পত্রিকায় ২৩ অক্টোবর (৭ কার্তিক) রবিবারে প্রকাশিত হয় |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">১৩১৫ বঙ্গাব্দের ১২ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে ১৯০৮) সোমবারে হীরেন্দ্রনাথ দত্তের সভাপতিত্বে চৈতন্য লাইব্রেরির উদ্যোগে মিনার্ভা থিয়েটারে ‘পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক একটি লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন রবীন্দ্রনাথ | এই প্রবন্ধে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিকায় সশস্ত্র গুপ্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এবং আর্য-অনার্য সম্মিলন ক্ষেত্ররূপ ভারতবর্ষে খণ্ডতা ও ক্ষুদ্রতাকে অখণ্ড বৃহত্ত্বের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টায় যে সমস্ত মনীষী স্মরণযোগ্য তাঁদের মধ্যে রামমোহন রায়, দয়ানন্দ, কেশবচন্দ্র প্রমুখ মনীষীদের সঙ্গে রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রবীন্দ্রনাথ লেখেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘রামমোহন রায়, স্বামী দয়ানন্দ, কেশবচন্দ্র, রামকৃষ্ণ পরমহংস, বিবেকানন্দ, শিবনারায়ণ স্বামী, ইঁহারাও অনৈক্যের মধ্যে এককে, ক্ষুদ্রতার মধ্যে ভূমাকে প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য জীবনের সাধনাকে ভারতবর্ষের হস্তে সমর্পণ করিয়াছেন।’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের সময়কালে ভারতে জাগ্রত হয়েছিল নবজাগ্রত হিন্দুধর্ম এবং সেই হিন্দুধর্মের সঙ্গে ব্রাহ্মধর্মের মিলনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ | এই কালপর্বে বাংলা তথা ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে নবজাগ্রত হিন্দুধর্মের প্রচার ও প্রসারের অন্যতম নায়ক ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ | বিবেকানন্দের ভাব-ভাবনার উৎসভূমি ছিল রামকৃষ্ণ আদর্শ | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">নিরাকার-ব্রহ্মে বিশ্বাসী ব্রাহ্মবাদী রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি সম্ভবত এড়িয়ে যায়নি কথামৃতে বর্ণিত ৫ আগস্ট, ১৮৮২ (২১ শ্রাবণ, ১২৮৯) শনিবারের ঘটনাটি | উক্ত দিনে কলকাতার বাদুড়-বাগানে বিদ্যাসাগরের গৃহে মিলন হয়েছিল রামকৃষ্ণ বিদ্যাসাগরের | কথোপকথনে উঠে এসেছিল ব্রহ্ম প্রসঙ্গ | রামকৃষ্ণ বলেছেনঃ </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">“ব্রহ্ম—বিদ্যা ও অবিদ্যার পার। তিনি মায়াতীত। ব্রহ্ম যে কি মুখে বলা যায় না। সব জিনিস উচ্ছিষ্ট হয়ে গেছে। ...কিন্তু একটি জিনিস কেবল উচ্ছিষ্ট হয় নাই, সে জিনিসটি ব্রহ্ম।”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণের মুখে ব্রহ্মব্যাখ্যা শুনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্বীকার করে নিয়েছেন— পুরোনো তত্ত্বের নবজাগ্রত চেতনাকে, পুরোনো চিন্তনের নবতম সংস্করণকে |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ব্রহ্মবাদকে ব্যাখ্যা করে বিদ্যাসাগরকে গল্প শুনিয়েছেন রামকৃষ্ণঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘এক বাপের দুটি ছেলে। ব্রহ্মবিদ্যা শিখবার জন্য ছেলে দুটিকে, বাপ আচার্যের হাতে দিলেন। কয়েক বৎসর পর তারা গুরুগৃহ থেকে ফিরে এল, এসে বাপকে প্রণাম করলে। বাপের ইচ্ছা দেখেন, এদের ব্রহ্মজ্ঞান কিরূপ হয়েছে। বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “বাপ! তুমি তো সব পড়েছ, ব্রহ্ম কিরূপ বল দেখি?” বড় ছেলেটি বেদ থেকে নানা শ্লোক বলে ব্রহ্মের স্বরূপ বোঝাতে লাগল। বাপ চুপ করে রইলেন। যখন ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে হেঁটমুখে চুপ করে রইল। মুখে কোন কথা নেই। বাপ তখন প্রসন্ন হয়ে ছোট ছেলেকে বললেন “বাপু! তুমিই একটু বুঝেছ। ব্রহ্ম যে কি, মুখে বলা যায় না।”’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘Probuddha Bharat’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘To the Paramhansa Ramkrishna Deba’ শীর্ষক রবীন্দ্রনাথ লিখিত ইংরাজি কবিতাটিঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘Diverse courses of worship</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">from varied springs of fulfilment</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">have mingled in your meditation.</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">The manifold revelation of the joy</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">of the Infinite</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">has given from to a shrine of unity</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">in your life,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">wherefrom far and near arrive salutations,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">to which I join my own.’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রচনাটির নির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া না গেলেও একথা সহজেই অনুমান করা যায় উক্ত রচনাটি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারির আগের কোনো এক সময়ের রচনা | রচনাটির বঙ্গানুবাদও করেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">পরমহংস রামকৃষ্ণদেব</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">তোমার জীবনে অসীমের লীলা পথে</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">নূতন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে;</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৩৭ সালের ১লা &nbsp;থেকে ৮ই মার্চ রামকৃষ্ণ সেন্টিনারি কমিটির উদ্যোগে কলকাতায় একটি ধর্ম মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় | আট দিনের এই অনুষ্ঠানে সকাল ও সন্ধ্যা মিলিয়ে মোট ১৫ টি অধিবেশন হয়েছিল |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">বিভিন্ন অধিবেশনে ভাষণ দেন— স্যার ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, ড. সি. এল. চেন, স্বামী অভেদানন্দ, কাকা কালেকর, ড. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী পরমানন্দ, স্যার ফ্রান্সিস ইয়ংহ্যাজব্যান্ড, অধ্যাপক মহম্মদ আলি শিরাজি, ড. ডি. আর. ভাণ্ডারকর, মহামহোপাধ্যায় প্রমথনাথ তর্কভূষণ, শ্রীমতী সরোজিনী নাইডু, মাদাম আদেলীনা দেল কারীল দে গুইরলদেস্, শ্রীমৎ স্বামী ভাগবতানন্দজী, ড. এফ. ভি. তুসেফ, অধ্যাপক এ. বি. ধ্রুব |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান তথা কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি স্যার মন্মথনাথ মুখোপাধ্যায় অভ্যর্থনা ভাষণ দেন | ধর্মমহাসভায় প্রেরিত বা পঠিত রচনার সংখ্যা ছিল ১১০টি | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">দেশীয় লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন—ড. সুশীলকুমার মৈত্র, ড. বিনয়কুমার সরকার, ড. নীলরতন ধর, ড. নারায়ণ মেনন, স্যার জাহাঙ্গীর কয়াজি, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, অধ্যাপক নলিনাক্ষ দত্ত, অধ্যাপক গুরুমুখ নিহাল সিং, মাদাম সোফিয়া ওয়াদিয়া, অধ্যাপক বটুকনাথ ভট্টাচার্য, শরৎচন্দ্র বসু, অধ্যাপক অধরচন্দ্র দাস, ড. সরোজকুমার দাস, দেওয়ান বাহাদুর কে.এস. রামস্বামী শাস্ত্রী, ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার, ড. প্রভুদত্ত শাস্ত্রী, গুরুসদয় দত্ত, ড. এ. সি. উকিল, শ্রীমতী সরলা দেবীচৌধুরানী, অধ্যাপক দক্ষিণারঞ্জন শাস্ত্রী, অধ্যাপক হরিদাস ভট্টাচার্য, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, ড. ভগবান দাস, রায়বাহাদুর সি. রামানুজাচার্য |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মনীষীদের লিখিত ৩৫টি রচনা এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে এসেছিল | প্রেরকরা হলেন— এম. উইন্টারনিৎস, এ.বি. কীথ, জা এবর, পল ম্যাসন, অরসেন, জি এল ডুপার্ট, চার্লস এ. এলউড প্রমুখ |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ভারতের বাইরে যে সমস্ত দেশ থেকে শুভেচ্ছাবাণী ও রচনা এসেছিল সেগুলি হল—ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, পোলান্ড, হল্যান্ড, রোম, ইটালি, ইজিপ্ট, ইরাক, ইরান, মরিশাস, মালয়, তিব্বত, চেকোশ্লোভাকিয়া, যুগোশ্লাভাকিয়া, সুইজারল্যান্ড, রুমানিয়া, বেলজিয়াম, ব্যাভেরিয়া |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ড. বিনয়কুমার সরকার |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৩ রা মার্চ অপরাহ্ণের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রবীন্দ্রনাথের ঐদিনের বক্তৃতা পুস্তিকাকারে মুদ্রিত হয়েছিল |</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">Sri Ramakrishna Centenary Parliament of Religions, Address by Rabindranath Tagore, Town Hall, Calcutta 3rd March, 1937, Pages 9, Art Press, Calcutta.</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">যদিও রবীন্দ্রনাথের শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই অধিবেশন হয় কলেজ স্কোয়ারস্থ ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে | ৪ মার্চ, ১৯৩৭ অমৃতবাজার পত্রিকা তার প্রতিবেদনে লেখেঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘Amrita Bazar Patrika (March 4, 1937)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">Tributes to Paramahansa</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">Poet’s Message</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">Need of a Living Recognition of Neglected Truth</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">The Religion and its Reality</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">A Twenty-five Minute Speech Before a Vast Audience in Parliament of Religions</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">“I venerate Paramahansa Dev because he, in an arid age of religious nihilism, proved the truth of our spiritual heritage by realising it, because the largeness of his spirit could comprehend seemingly antagonistic modes of ‘sadhana’, and because the simplicity of his soul shames for all time the pomp and pedantry of pontiffs and pundits.”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">In these words, Poet Rabindra Nath Tagore paid a magnificent tribute to the memory of Ramkrishna Paramahansa when presiding at yesterday’s evening session of the Parliament of Religions at the Calcutta University Institute.</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">The vast assembly listened to the Poet’s address with rapt attention which he took twenty-five minutes to deliver. And the feelings of the audience found eloquent expression in the remarks which Sir Francis Younghusband, one of the most distinguished of the Overseas delegates, made in the Conference in rising to offer a vote of thanks to the Chair---that for this speech alone they might well consider the holding of this Parliament a success…’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছিলেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">“যে ব্যক্তি সদাসর্বদা ঈশ্বর চিন্তা করে, সেই জানতে পারে, তাঁর স্বরূপ কি। সে ব্যক্তিই জানে যে, ঈশ্বর নানারূপে দেখা দেন। নানাভাবে দেখা দেন। তিনি সগুণ আবার নির্গুণ। গাছতলায় যে থাকে সেই জানে যে, বহুরূপীর নানা রঙ, আবার কখনো কখনো কোনো রঙই থাকে না, অন্য লোকে কেবল তর্ক ঝগড়া করে কষ্ট পায়।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">তিনি সাকার, তিনি নিরাকার, কি রকম জানো? যেন সচ্চিদানন্দ সমুদ্র। কুল কিনারা নাই। ভক্তি হিমে সেই সমুদ্রের স্থানে স্থানে জল বরফ হয়ে যায়। যেন জল বরফ আকারে জমাট বাঁধে। অর্থাৎ ভক্তের কাছে তিনি সাক্ষাৎ হয়ে কখনো কখনো সাকার রূপ হয়ে দেখা দেন। আবার জ্ঞান সূর্য উঠলে সে বরফ গলে যায়।”</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনঃ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">‘তুমি &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;নব নব রূপে এসো প্রাণে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;গন্ধে বরনে, এসো গানে।।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো &nbsp;&nbsp;অঙ্গে পুলকময় পরশে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো &nbsp;&nbsp;চিত্তে সুধাময় হরষে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো &nbsp;&nbsp;মুগ্ধ মুদিত দু’নয়ানে।। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;নির্মল উজ্জ্বল কান্ত,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;সুন্দর স্নিগ্ধ প্রশান্ত,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো হে বিচিত্র বিধানে।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;দুঃখে সুখে, এসো মর্মে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;নিত্য নিত্য সব কর্মে,</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1"> &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এসো &nbsp;&nbsp;&nbsp;সকল-কর্ম-অবসানে।।’</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রামকৃষ্ণের বচন যেমন ছিল তাঁর আত্মগত, তেমনি রবীন্দ্রনাথের লেখনীর ভাব ছিলো তাঁর ব্যক্তিগত | পার্থক্য ছিলো আঙ্গিকে, প্রকাশভঙ্গিতে ও ভাষায় | নিরাকার-ব্রহ্ম কিম্বা সাকার-দেবতা উভয়ই ইন্দ্রিয়াতীত দর্শন | রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ আমাদের ভূমি থেকে ভূমায় উত্তরণের কথা বলে গেছেন | </span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">(ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী, রাষ্ট্রপতি-পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও রবীন্দ্র গবেষক)</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Wed, 28 Apr 2021 14:49:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/QT-O-8-1024x683_thumb.jpg" length="55409" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?----------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/00000000F</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[জেন হেলেন রোলান্ডস (Miss J. H. Rowlands): করিমগঞ্জ কলেজ এবং করিমগঞ্জ এর ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব]]></title>
			<author><![CDATA[বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C_%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9C"><![CDATA[করিমগঞ্জ কলেজ]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_00000000E"><div class="imTAJustify"><img class="image-0 fleft" src="http://elearninginfo.in/images/95036975_117064679982097_7001924873014476800_o_ay7lyit6.jpg"  title="" alt=""/><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">বাঙালি না হয়ে বাঙালিদের জন্য যে মনে প্রাণে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন তিনি হলেন একজন আইরিশ মহিলা জেন হেলেন রোলান্ডস (Miss J. H. Rowlands)। তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান মিশনারি। ভারতবর্ষকে ভালোবেসে সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে শিলচরের মিশনারী চার্চে এসেছিলেন ১৯৩২ সালে। আপোষহীন ও একজন ব্যক্তিত্বশালীনি মহিলা ছিলেন বলে খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি তখন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ঔপনিবেশিক শাসনযন্ত্রের যাঁতাকলে আমরা একসময় যেমন পিষ্ট ছিলাম, ঠিক সে সময় এমন কিছু ব্যক্তিত্ব ভারতে এসেছিলেন যারা আমৃত্যু ভারতের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। ধর্ম প্রচারক হলেও রোলান্ডস এই পিছিয়ে থাকা তৎকালীন সুরমা উপত্যকায় নারী শিক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি যেমন ছিলেন মানবতাবাদী তেমনি ছিলেন শিক্ষা প্রচারক। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়ে ভারতে চলে আসা এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি এবং বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলায় স্নাতকোত্তরে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন। পরবর্তীকালে ১৯৩০ সালে পেরিস থেকে তিনি ডি.লিট করেন। তাঁর দিনপঞ্জি থেকে জানা যায় তিনি “Position of Bengali Literature from the earliest times up to 1850 A. D” এই বিষয়ের উপর গবেষণা করেছিলেন। ১৮৯১ সালে ওয়ালের মেনাই ব্রিজ নামে একটি ছোট শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম জীবনে নিউ টাউন কান্ট্রি স্কুলে তিনি ফ্রেঞ্চ (French) ও বিউমারিস (Beaumaris) ভাষা পড়াতেন। ১৯১৫ সালে তিনি খ্রিস্টান মিশনারিতে দীক্ষিত হন। ১৯১৬ সালে তিনি সিলেটের মৌলভি বাজারে চলে আসেন এবং মেয়েদের একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজে নিযুক্ত হন। সে সময়ই তিনি খুব ভালো করে বাংলা শেখেন। ১৯২৭ সালে তিনি মৌলভি বাজার ছেড়ে দার্জিলিং ভাষা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। দার্জিলিং থেকে কলকাতা খুব কাছে হওয়ায় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর পড়াশুনা করেন। সেখান থেকে শিলচরে আসার পরে তাঁর শেষ জীবন করিমগঞ্জে অতিবাহিত হয় এবং ১৯৫৫ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯৪৬ সালের ৮ মার্চ তৎকালীন সিলেট ডিভিসনের এস. ডি. ও একটি পত্রে তাঁর প্রশংসা করে সিলেটে শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি করিমগঞ্জ চলে আসেন। করিমগঞ্জে এসেই বিভিন্ন জনহিতকর কাজে তিনি জড়িয়ে পরেন। করিমগঞ্জ ছিল তাঁর দ্বিতীয় বাসস্থান। আমৃত্যু করিমগঞ্জবাসীর জন্য তিনি কাজ করে গেছেন। সে সময় পর্বে নারীশিক্ষা কিংবা নারীস্বাধীনতার তেমন চল ছিল না। তিনি এগিয়ে আসেন করিমগঞ্জে স্ত্রী শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে। তাঁর সবচেয়ে মহৎ কাজ করিমগঞ্জে ‘দীপ্তি নিবাস’ নামে একটি অনাথাশ্রম স্থাপন করা। যাদের কেউ ছিল না তাদের তিনি মায়ের মত সবার সেবা করতেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সামাজিক আন্দোলনের সাথে সাথে তিনি শিক্ষাক্ষত্রেও শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন। করিমগঞ্জ কলেজের ঊষালগ্নে তিনি যদি না থাকতেন তাহলে হয়তো কলেজের কর্মকাণ্ড অনেকটাই পিছিয়ে পড়ত। কারণ সে সময় যোগ্য শিক্ষকের খুবই অভাব ছিল। করিমগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রমেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যকে সে সময় কলকাতা গিয়ে শিক্ষক নিয়ে আসতে হয়েছিল। বাংলার প্রতি তাঁর এতোটাই ভালোবাসা ছিল যে তিনি অনর্গল বাংলা পড়াতে পারতেন। বিদেশি হয়ে বাংলা ভাষা এবং অন্য দেশের কোনো একটি মফস্বলকে ভালোবেসে নিজের জীবন উৎসর্গ করা সত্যিই বিরল। যেহেতু তিনি মিশনারি ছিলেন তাই করিমগঞ্জ কলেজে কোনো সাম্মানিক ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি মূলত ইংরেজি, আর দর্শনের ক্লাস করাতেন। কিন্তু অনেক সময় বাংলার ক্লাসও নিতেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ আদিত্য স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, “After we started the Karimganj College in 1946, Dr. Rowlands was requested to take some classes as honorary professor. She did not miss a single class in any week till her death on 11.02.55 except when she went out of India.” তাঁর কাছে তখন অনেক ইংরেজি বইয়ের সাথে সাথে বাংলা বইয়েরও সম্ভার ছিল। কলেজের গ্রন্থাগারের অভাব পূরণের জন্য রবীন্দ্র রচনাবলী, শেক্সপীয়র রচনাবলীসহ তখন অনেক বই দান করেছিলেন। ইউরোপীয়ান মিশনারিদের বাংলা শেখানোর জন্য তিনি “Learning Bengali Language from English” &nbsp;নামে একটি বইও লিখেছিলেন। তাঁর অবদানকে সম্মান জানিয়ে করিমগঞ্জ কলেজের বর্তমান লাইব্রেরি হল Rowlands Library Hall রাখা হয়েছে। ১৯৫৮ সালে এই লাইব্রেরি হলের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল সৈয়দ ফজল আলি। ১৯৮৬ সালে করিমগঞ্জে তাঁর স্মৃতিতে Rowlands Memorial High School প্রতিষ্ঠিত হয়। এই স্কুল মিজোরাম প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ এর অধীনে। ২০০৭ সালে আসাম সরকার ছাত্রী নিবাস তৈরি করার জন্য অর্থ প্রদান করলে তৎকালীন কলেজ অধ্যক্ষ ড. রাধিকারঞ্জন চক্রবর্তীর সময়ে একটি ছাত্রীনিবাস নির্মিত হয়। যেহেতু স্ত্রীশিক্ষায় এই অঞ্চলে তাঁর অবদান অসামান্য তাই সে সময়ের হোস্টেল সুপারের দায়িত্বে থাকা ড. নির্মল কুমার সরকার ছাত্রীবাসের নাম Rowlands Memorial Girls Hostel রাখার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে রোলান্ডস এর প্রতি সম্মান জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই নামই গ্রহণ করেন। তিনিই সম্ভবত করিমগঞ্জে আসা শেষ ইউরোপীয়ান মিশনারী। তিনি করিমগঞ্জ কলেজ এবং করিমগঞ্জবাসীদের জন্য যা করে গেছেন তাঁর জন্য তিনি আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">তথ্যসূত্র:</span></div><div><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">1. From the Corridors of Memory, 1970, Rabindranath Aditya</span></div><div><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">2. Portrait of A Visionary: J. H. Rowlands, Sujit Kumar Ghosh</span></div><div><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">3.</span><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2"> </span><span class="fs14lh1-5 cf2 ff1">অশোকবিজয় রাহা এবং করিমগঞ্জ কলেজের বাংলা বিদ্যাচর্চা, ড. জন্মজিৎ রায়</span></div><div><span class="fs14lh1-5 cf2 ff1">4. করিমগঞ্জ কলেজে আমার অধ্যয়নকালীন কিছু স্মৃতি, রমা দাস</span></div><div><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">5.</span><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2"> </span><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">https://en.wikipedia.org/wiki/Jane_Helen_Rowlands</span></div><div><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">(c) Dr. Bishwajit Bhattacharjee, Asst. Professor, Karimganj College, Karimganj</span></div><div><span class="fs11lh1-5 cf2 ff2">Date: 30.04.2020</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Wed, 07 Apr 2021 17:01:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/Rowlands-handwriting_thumb.jpg" length="373111" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?--------------------miss-j--h--rowlands--------------------------------------------------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/00000000E</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[করিমগঞ্জ কলেজের জন্মলগ্নের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস]]></title>
			<author><![CDATA[বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C_%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9C"><![CDATA[করিমগঞ্জ কলেজ]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_00000000D"><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">আসামের বরাক উপত্যকায় স্বাধীনতা পূর্ববর্তী যে দুটি মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল তার মধ্যে করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয় অন্যতম। শিলচরের গুরুচরণ কলেজ (১৯৩৫) এর পর ১৯৪৬ সালে করিমগঞ্জে করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়। তার পরবর্তীকালে এই উপত্যকায় অন্যান্য মহাবিদ্যালয়গুলি ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে- শ্রীকিষাণ সারদা মহাবিদ্যালয়, হাইলাকান্দি (১৯৫০), কাছাড় কলেজ, শিলচর (১৯৬০), রবীন্দ্র সদন মহিলা </span><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">মহাবিদ্যালয়</span><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">, করিমগঞ্জ (১৯৬২), মহিলা মহাবিদ্যালয়, শিলচর (১৯৬৩) রাধামাধব মহাবিদ্যালয়, শিলচর (১৯৭১)। বর্তমানে এই উপত্যকায় অসংখ্য মহাবিদ্যালয় রয়েছে।</span><br></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">১৯৪৬ সালে দক্ষিণ আসামে করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে একটি ইতিহাস। যখন এই মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তখন করিমগঞ্জ অবিভক্ত ভারতের সিলেট অঞ্চলের সাবডিভিসন ছিল। আজকের বরাক উপত্যকার নাম তখন সুরমা উপত্যকা। সুরমা উপত্যকার মূল সদর তখন সিলেট ছিল। করিমগঞ্জ কলেজ স্থাপনের আগে এই উপত্যকায় চারটি মহাবিদ্যালয় ছিল। তার মধ্যে তিনটিই সিলেট সদরে- মুরারীচাঁদ মহাবিদ্যালয় (১৮৯২), মহিলা বিদ্যালয় (১৯৩৯), মদনমোহন মহাবিদ্যালয় (১৯৪০) এবং শিলচরে ছিল গুরুচরণ মহাবিদ্যালয় (১৯৩৫)।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">সুদূর মধ্যযুগ থেকে করিমগঞ্জ ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল ছিল। করিমগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীই তখন ব্যবসা বাণিজ্যের মূল মাধ্যম ছিল। ১৭৬৫ সালে এই অঞ্চল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্তর্ভূক্ত হয়। উল্লেখ্য ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলকে আগে ‘গঞ্জ’ বলা হত। তা থেকেই সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জকিগঞ্জ, করিমগঞ্জ প্রভৃতি নামের উৎপত্তি। ১৮৯০ সালে করিমগঞ্জ রেলের সাথে যুক্ত হয়। গুয়াহাটির সাথে করিমগঞ্জ যুক্ত হয় বদরপুর ও লামডিং এর মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে রেল এবং জলপথের সাথে যুক্ত হলে এই অঞ্চল ক্রমশ উন্নতির দিকে এগোতে থাকে। সে সময় কলকাতা থেকে জলপথে খুব সহজেই পণ্য এই অঞ্চলে আনা সম্ভবপর ছিল। বর্তমানে জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজ বন্দরগুলো এখনও তাদের ঐতিহ্য নিয়ে শহরের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের ফলে ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই মানুষের মধ্যে শিক্ষা-দীক্ষার ক্রমশ প্রসার ঘটতে শুরু করেছিল। চল্লিশের দশকের গোড়া থেকেই আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি দ্রুত গতিতে বদলে যেতে শুরু করলে এই অঞ্চলে একটি কলেজ স্থাপন খুবই গুরুত্বপুর্ণ হয়ে পরে। এই কলেজ স্থাপনের পেছনে অনেক মহৎ ব্যক্তির অবদান রয়েছে। খুব সম্ভবত ১৯৪৫ সালে প্রথম কিছু বরেণ্য ব্যক্তি এগিয়ে আসেন এই অঞ্চলে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য। সে সময় মহম্মদ ইয়াহিয়া খানকে প্রধান করে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠিত হয়। ইয়াহিয়া খান এ অঞ্চলের তৎকালীন সাবডিভিসন অফিসার ছিলেন। অগ্রণী হিসেবে এগিয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ আদিত্য যিনি পেশায় উকিল ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষক এবং সমাজ সংস্কারক। রবীন্দ্রনাথ আদিত্য ছিলেন এই কমিটির সম্পাদক। করিমগঞ্জ কলেজ ইয়াহিয়া খানের স্বপ্ন ছিল, যে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সেদিন সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন। কলেজ কমিটির প্রচেষ্টায় ৩১শে মার্চ ১৯৪৬ এর রেকর্ড অনুযায়ী ৬৬,৬৫৯ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল। এই টাকা সেদিন বিভিন্ন চা বাগানের মালিক, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থা এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেকে দান করেছিলেন। ইয়াহিয়া খান তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এস. সি. দাসের কাছে সরকারি চিঠি পাঠিয়ে বলেন, এই কলেজ স্থাপনের জন্য তার ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবধরনের সাহায্য সহযোগিতা করবেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ২০ আগস্ট ১৯৪৭ সালে খান সাহেব ভারত ছেড়ে পাকিস্তা্নে চলে যান। শুরু থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ আদিত্য এই কলেজের সেক্রেটারির ভূমিকা পালন করেন।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">করিমগঞ্জ কলেজের আরেকজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হলেন তৎকালীন ভারতের একজন অন্যতম শিক্ষা সংস্কারক, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক প্রমেশচন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি ১৯৪৭ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। এই তিনজনের প্রচেষ্টায় খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই কলেজ তার নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলে। ইয়াহিয়া খান চলে যাওয়ার পর এই দুইজন শক্ত হাতে হাল ধরেন। তখন অনেক কাজ ছিল যেমন- কলেজের জন্য জমি নির্ধারণ, কলেজের নিজস্ব ঘর তৈরি করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ প্রভৃতি নানা বিষয়। তারা নেতৃত্ব দিলেও তাদের সঙ্গে সেদিন ছিলেন রাজস্থানী ব্যবসায়ী তুলারাম ভুরা, উকিল বিনোদ বিহারী দাস, মুন্সী ফুরকান আলী, খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ চৌধুরী, সনৎ কুমার ভট্টাচার্য, রসরাজ দাস, রণেন্দ্রমোহন দাস, রায়বাহাদুর অনুকূল চন্দ্র দাস, খানসাহেব আব্দুস সালাম চৌধুরী, খান বাহাদুর মহম্মদ আলী, হরদয়াল দাস, ঈশ্বরচন্দ্র রায়, ললিত মোহন শর্মা এবং আরো অনেক ব্যক্তিত্ব।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">শুরুতে কলা, বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য বিভাগের সাথে সাথে কারিগরি বিদ্যাকেও অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। করিমগঞ্জ কলেজের আসল নাম ছিল ‘করিমগঞ্জ কলেজ অব্ আর্টস্, সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি’। কিন্তু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী টেকনোলজিকে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হল না। তাই প্রাথমিক অবস্থায় টেকনোলজিকে বাদ দিয়েই কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়, কিন্তু কমিটির সদস্যরা নাছোড়বান্দা ছিলেন। তারা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চিঠি লেখেন টেকনোলজিকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য। ইয়াহিয়া খান তৎকালীন আসামের মুখ্যমন্ত্রী গোপিনাথ বরদলৈর কাছেও চিঠি লিখেছিলেন, যা তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী করিমগঞ্জ কলেজ পরিদর্শনে এলে এ কথার উল্লেখ করেন এবং কলেজ কমিটিকে কারিগরি বিভাগ অন্তর্ভূক্ত করার জন্য নানা পরামর্শ প্রদান করেন। যদিও কলেজ কমিটির এই স্বপ্ন পূরণ হয়নি কারণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় ১৯০৪ সালের নিয়ম অনুযায়ী ভারত সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলিতে এ ধরনের অনুমোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ১৯৪৬ সালের গোড়ার দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য করিমগঞ্জ কলেজ পরিদর্শনে আসে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের আগে আসাম সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল। আসাম সরকার ১৯৪৬ সালে ২ জুলাই অনুমোদন দিলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১০ জুলাই অনুমোদন প্রদান করে। ১৯৪৬-৪৭ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হয় ইংলিশ, বাংলা, সংস্কৃত, এরাবিক, পারসিয়ান, ইতিহাস, Elements of Civic &amp; Economics এবং দর্শন। ১৯৪৬ সালের মে মাসের এক তারিখ থেকে অধ্যক্ষ প্রমেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে শহরের নগেন্দ্রনাথ টাউন হলে কলেজের পাঠদান শুরু হয়। ১৯৪৭-৪৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ স্টেসন রোডের আজকের ঘরে স্থানান্তরিত হয়।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">(সংক্ষেপিত আলোচনা। প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্যগুলি করিমগঞ্জ কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ কামালুদ্দিন আহমেদের লেখা</span><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> </span><span class="fs12lh1-5 cf1 ff1">‘Karimganj College: A Historical Profile’</span><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1"> </span><span class="fs14lh1-5 cf1 ff1">থেকে সংগৃহীত)</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff1">Photo Courtesy: Sumi Das Purkayastha</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff1">Dr. Bishwajit Bhattacharjee, Asst. Professor, Karimganj College, Karimganj</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs11lh1-5 cf1 ff1">Dated. 28.04.2020</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Wed, 07 Apr 2021 16:55:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/95192423_117064599982105_2120466319433269248_n_thumb.jpg" length="69017" type="image/jpg" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?-------------------------------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/00000000D</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[হ্রস্ব-দীর্ঘ ই-কারের ব্যবহার]]></title>
			<author><![CDATA[বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE"><![CDATA[পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি বানানের নিয়ম]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_00000000C"><div><span class="fs16lh1-5 ff1">‘কী’ এর অর্থগত প্রয়োগ কখনো কর্মবাচক সর্বনাম, কখনও প্রশ্নমূলক সর্বনাম, কখনও বিশেষণের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন- তুমি কী দেখেছ বলবে তো ! বা কী চমৎকার ! কী শোভা কী ছায়া গো !</span><br></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">বিকল্পাত্মক বিশেষণ হিসেবেও কী ব্যবহৃত হবে: কী রাম কী শ্যাম দুটোই সমান পাজি !</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">এই সঙ্গে সমজাতীয় ব্যকরণসূত্রে কীসে এবং কীসের দীর্ঘ ঈ-কার দিয়ে লেখা উচিত এবং তার প্রচলন বাড়ছে।</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">তুমি কী দেখেছ?- এর উত্তর হবে শ্রোতা যা দেখেছে নাম বা বর্ণনা।</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">এরকম আরও প্রয়োগ- কী চাই? কী ভেবেছ? ‘ওরে কী শুনেছিস ঘুমের ঘোরে’</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">কীভাবে, কীরকম, কী জন্য, কী রে, কী হে- এগুলিতেও কী হবে।</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ কিংবা না হবে, শুধু সে ক্ষেত্রে হ্রস্ব ই-কারযুক্ত কি ব্যবহৃত হবে। যেমন-</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">১. তুমি কি বইটা দেখেছ?- এর উত্তর হ্যাঁ কিংবা না।</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">২. চাই-কি, বই-কি, এমন-কিতেও হ্রস্ব ই-কার ব্যবহার হবে।</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">৩. একসাথে এমনকি হলে হ্রস্ব ই-কার হবে কিন্তু পৃথক হলে এমন কী হবে। শ্বাসাঘাত থাকলে কী হবে।</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">৪. এইভাবেই প্রভেদ করতে হবে ‘সে কী’ (বিষ্ময়সূচক উচ্ছ্বাস) আর ‘সেকি’ (সাধারণ হ্যাঁ-না প্রশ্নের কি)- এর মধ্যে:</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">‘ও এর মধ্যেই চলে গেছে? সে কী?’</span></div> &nbsp;<div><span class="fs16lh1-5 ff1">সে কি কাজটা শেষ করেছে ?’ ‘সে কি আসে ?’</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Wed, 07 Apr 2021 16:49:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/Doc1_001_thumb.png" length="13318898" type="image/png" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?----------------------------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/00000000C</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[আকাদেমি বানানের নিয়ম অনুযায়ী বাংলা বানানে হস্‌ চিহ্নের ব্যবহার]]></title>
			<author><![CDATA[বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE"><![CDATA[পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি বানানের নিয়ম]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_000000008"><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ব্যঞ্জনে হস্‌ চিহ্নকে তার পরস্বরহীন অর্থাৎ ব্যঞ্জনান্ত বা হলন্ত উচ্চারণ বোঝানোর চিহ্ন বা ধ্বনিমাত্রাচিহ্ন (diacritical mark) হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলায় কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া সংস্কৃত অ-কারান্ত শব্দ প্রায় সর্বত্র ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারিত হয়। এজন্য পদের শেষে হস্‌ চিহ্ন বাহুল্যসূচক, এজন্য নিম্নলিখিত শব্দগুলিতে হস্‌ চিহ্ন ব্যবহার হবে না-</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অবাক, আপদ, আশিস, দিক, ধিক, নিরাপদ, পরিষদ, পৃথক, বণিক, বিপদ, বিরাট, সভাষদ, সম্পদ, সম্রাট ইত্যাদি।</span></div><div class="imTACenter"><b><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">রেফের নীচে অর্থাৎ রেফযুক্ত বর্ণে ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব</span></b></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">আকাদেমি বানানের নিয়ম অনুসারে রেফের নীচে ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব সর্বত্র বর্জনীয়। দ্বিত্বহীন রেফযুক্ত শব্দগুলির বানান লক্ষণীয়, যেমন- অর্ক, অর্চনা, অর্জন, অর্ধ, আচার্য, আর্য, কর্ম, চর্চা, পূর্ব, বর্জন, ভট্টাচার্য, মূর্ছনা, সূর্য, স্বর্গ, হার্দিক, কার্তিক, বার্ধক্য ইত্যাদি।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব বলতে সেই ব্যঞ্জনেরই দ্বিত্ব বোঝায়। রেফের নীচে যয &gt; র্য্য এর স্থলে র্য হবে। কিন্তু র্ঘ্য (র্ঘ +ঘ), র্ত্য (র্ত + য), র্দ্য (র্দ + য) এই শব্দগুলির ক্ষেত্রে য-ফলা স্বতন্ত্র্য ব্যঞ্জন, সুতরাং সেটি বর্জিত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যেমন- অর্ঘ্য, মর্ত্য, হার্দ্য ইত্যাদি।</span></div><div class="imTACenter"><b><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ঙ এবং ং (অনুস্বার) এর ব্যবহারের নিয়ম</span></b></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">তৎসম শব্দে সংস্কৃত ব্যকরণমতে সন্ধি-পরিণামে শব্দের পূর্বপদের শেষ বর্ণ ম্‌ হলে, পরবর্তি বর্ণ ঙ্‌ এবং ং উভয়ই শুদ্ধ। অর্থাৎ-</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অলম+কার&gt; অলঙ্কার/অলংকার</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অহম+কার&gt; অহঙ্কার/অহংকার</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ভয়ম+কর&gt; ভয়ঙ্কর/ভয়ংকর</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">শম্‌+কর&gt; শঙ্কর/শংকর</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">শুভম+কর&gt;শুভঙ্কর/শুভংকর</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সম্‌+কর&gt;সঙ্কর, সংকর</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সম্‌+গত&gt;সঙ্গত, সংগত</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সম্‌+গীত&gt; সঙ্গীত, সংগীত</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এক্ষেত্রে কেবলমাত্র ং-যুক্ত বানান ব্যবহারই বাঞ্ছনীয়।</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">কিন্তু যে সব শব্দে ম-এর সন্ধি পরিণাম হিসেবে ং আসেনি, সেখানে &nbsp;ং ব্যবহার অশুদ্ধ, তাই সম্পূর্ণরূপে পরিহার্য। সুতরাং অঙ্ক কখনোই অংক নয়। তাই বংগ নয় বঙ্গ, শংকা নয়, শঙ্কা, সংগে নয় সঙ্গে লেখাই বিধেয়। অনুরূপ শুদ্ধ বানান-</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অঙ্কুশ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, পঙ্ক, ভঙ্গ, রঙ্গ, সঙ্গ</span></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সম+গীত সংগীত হলেও সম্‌+বোধন কিন্তু সংবোধন নয়। ম্‌ এর পরে বর্গীয় ব থাকলে তা ম-ই থাকবে, ং হবে না, ম্‌ এর পরে অন্তঃস্থ ব থাকলে তবেই সেটা ং হবে। তাই কিংবদন্তী কিংবা প্রিয়ংবদা, সংবর্ধনা, সংবাদ ইত্যাদি, কিন্তু সম্বন্ধ, সম্বুদ্ধ, সম্বোধন ইত্যাদি।</span></div><div class="imTACenter"><b><span class="fs18lh1-5 cf1 ff1">কিছু বিশেষ্য শব্দের য-ফলা</span></b></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">দারিদ্র্য, বৈচিত্র্য ইত্যাদি কোনো কোনো তৎসম শব্দে য-ফলাহীন বিকল্প বানান সংস্কৃতে লক্ষ করা যায়। কিন্তু সমতা বিধানের জন্য সমস্ত শব্দেই য-ফলাহীন বিকল্পের বদলে য-ফলা দিয়ে লিখতে হবে। যেমন-- চারিত্র্য, দারিদ্র্য, বৈচিত্র্য, বৈদগ্ধ্য, সৌগন্ধ্য, সৌহার্দ্য ইত্যাদি।</span></div><div class="imTACenter"><b><span class="fs18lh1-5 cf1 ff1">শ, ষ, স</span></b></div><div class="imTAJustify"><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">কোনো কোনো তৎসম বানানের ক্ষেত্রে শ-ষ বা শ-স দুটোই সংস্কৃত অভিধানে স্বীকৃত। যথা- কোশ- কোষ, উশীর-উষীর, কিশলয়-কিসলয়, শায়ক-সায়ক ইত্যাদি। সেগুলির ক্ষেত্রে শুধু শ ব্যবহার করা যেতে পারে।</span></div></div>]]></description>
			<pubDate>Sun, 04 Apr 2021 15:18:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/Doc1_001_thumb.png" length="13318898" type="image/png" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?banglabanan</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/000000008</guid>
		</item>
		<item>
			<title><![CDATA[আকাদেমি বানানের নিয়ম অনুযায়ী তৎসম বানানের নিয়ম]]></title>
			<author><![CDATA[বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য]]></author>
			<category domain="http://elearninginfo.in/blog/index.php?category=%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE"><![CDATA[পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি বানানের নিয়ম]]></category>
			<category>imblog</category>
			<description><![CDATA[<div id="imBlogPost_000000007"><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির নিয়ম অনুসারে বাংলা বানানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">তৎসম শব্দের বানান</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সংস্কৃত শব্দ ভাণ্ডারের যে সব শব্দ অবিকৃতভাবে বাংলায় লিখিত রূপে গৃহীত হয়েছে, সেগুলিকেই বাংলায় তৎসম শব্দ বলে। সংস্কৃত ভাষায় যে সব শব্দ বা তৎসম শব্দ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে আকাদেমি বানান অভিধানে তা পরিবর্তনের কথা বলে নি। কিন্তু বহু বানানের বিকল্প বানান থাকায় তার মধ্যে কোনটি গ্রহণ করা হবে তার একটি সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া বাংলা ব্যকরণসম্মত প্রত্যয় ব্যবহারে, সমাস ব্যবহারে বা সন্ধির সূত্রানুসারে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহারের ফলে কিছু বানানের সামান্য পরিবর্তন ঘটেছে। সেগুলিকেও তৎসম শব্দের মতো মান্যতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিছু নিয়মাবলী নীচে উল্লেখ করা হল:</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">১.তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে যেখানে হ্রস্ব ই উ/ই-কার উ-কার এবং দীর্ঘ ঈ ঊ/ঈ-কার ঊ-কার দুটি রূপই প্রচলিত ও গৃহীত সেখানে হ্রস্ব বিকল্পটি গ্রহণ করাই যুক্তিসঙ্গত। অঙ্গুরি-অঙ্গুরী, অন্তরিক্ষ-অন্তরীক্ষ, উষা-ঊষা, কুটির-কুটীর প্রভৃতি বানানে হ্রস্ব-ই কারকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এরকম কিছু বানান- অঙ্গুরি, অঙ্গুলি, অবনি, আকুতি, উষসী, উষা, ক্ষৌণি, চিৎকার, তুলিকা, ত্রুটি, দরি, দ্রোণি, ধমনি, ধরণি, ধূলি, নাড়ি, পদবি, পল্লি, পাটি, পুত্তলি, পেশি, বেণি, বেদি, ভৃঙ্গি, রজনি, শ্রেণী, সরণি, সারণি, সুরভি, সূচি ইত্যাদি।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">যে বানানে শুধুমাত্র দীর্ঘ ঈ-ঊ কার দিয়ে লেখা হয়, সে বানানগুলি সেভাবেই লেখা হবে।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">২. সংস্কৃত ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দগুলি (অধিকারিন, অধিবাসিন, অভিমুখিন, আততায়িন, একাকিন, কৃতিন, গুণিন, জ্ঞানিন, পক্ষিন, মন্ত্রিন, রোগিন, শশিন, সহযোগিন ইত্যাদি) কর্তৃকারকের একবচনে দীর্ঘ ঈ-কারান্ত হয় এবং দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপেই বাংলা শব্দে গৃহীত, যেমন-অধিকারী, অধিবাসী, অভিমুখী, আততায়ী, একাকী, কৃতী, গুণী, জ্ঞানী, তন্ত্রী, দ্বেষী, ধনী, পক্ষী, বিদ্রোহী, মন্ত্রী, রোগী, শশী, সহযোগী ইত্যাদি।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মে সমাসবদ্ধ কিংবা সংস্কৃত প্রত্যয়যুক্ত হলে এসব শব্দের দীর্ঘ ঈ-কার আবার হ্রস্ব ই-কারে ফিরে যায়। যেমন- গুণিজন, পক্ষিকুল, মন্ত্রিসভা, সশিভূষণ, একাকিত্ব, কৃতিত্ব, সহযোগিতা ইত্যাদি। কিন্তু বাংলা বানান ব্যবহারে এই নিয়মের প্রচুর ব্যতিক্রম দেখা যায়। যেমন-আগামীকাল, আততায়ীদ্বয়, ধনীসমাজ, পরবর্তীকাল, প্রাণিবিদ্যা, যন্ত্রীদল, হস্তীদল ইত্যাদি।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">এ জাতীয় অসামঞ্জস্য দূর করার জন্য নিম্নলিখিত বিধিসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">সমাসবদ্ধ শব্দের ক্ষেত্রে সংস্কৃত মূল শব্দে ঈ-কার থাকলে বাংলা শব্দে তাই গ্রহণ করা হবে। যেমন- অনুগামীবৃন্দ, আগামীকাল, পরবর্তীকাল, মন্ত্রীগণ, মন্ত্রীসভা, শশীভূষণ, যশস্বীগণ।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">*তবে সংস্কৃত ব্যকরণের নিয়ম অনুসারে মন্ত্রিসভা, শশিভূষণ ইত্যাদি লেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শব্দটি তৎসম হিসেবেই মান্যতা পাবে।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">তৎসম ত্ব ও তা যোগ করা হলে এসব শব্দের হ্রস্ব-ইকারান্ত প্রাতিপাদিক রূপেই লেখা হবে। যেমন- তেজস্বিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতা, মন্ত্রিত্ব, মেধাবিত্ব, সহমর্মিতা, স্থায়িত্ব ইত্যাদি।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">লিঙ্গান্তরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম পালিত হবে- তেজস্বিনী, প্রতিদ্বন্দ্বিনী, প্রতিযোগিনী।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৩. কোনো কোনো তৎসম শব্দে বাংলা প্রত্যয়-ই লাগিয়ে বিশেষণ করা যায়, আবার বিশেষ্যরূপেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন- উত্তরপ্রদেশি, উদয়পুরি, কৃত্তিবাসি, জনকপুরি, জনসংঘি, তৃণ্মূলি, দক্ষিণি, দেশি, প্রণামি, পশ্চিমি, বয়সি, বিদেশি, বিহারি, মনিপুরি, রামপ্রসাদি, স্বদেশি, হিন্দুস্থানি।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৪. অন্ত্যবিসর্গের প্রয়োগ সম্পূর্ণ বর্জিত হতে পারে। যেমন- অন্ততঃ, ক্রমশঃ প্রথমতঃ, প্রায়শঃ, ফলতঃ বস্তুতঃ, বহুশঃ, সর্বতঃ, উভয়তঃ প্রভৃতি শব্দের শেষে বিসর্গ থাকবে না। নীচের শব্দগুলিরও বিসর্গ বর্জিত হবে।</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অহঃ + অহঃ =অহরহ</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">ইতঃ + ততঃ =ইতস্তত</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">পুনঃ + পুনঃ = পুনপুন</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">মুহুঃ + মুহুঃ = মুহুর্মুহু</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৫. তবে প্রথম শব্দের শেষে বিসর্গ থাকলে তা রক্ষিত হবে। যথা-</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অতঃ+পর= অতঃপর</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অধঃ+পাত= অধঃপাত</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">অন্তঃ+করণ= অন্তঃকরণ</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">তেজঃ+পুঞ্জ= তেজঃপুঞ্জ</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">বয়ঃ+ সন্ধি= বয়ঃসন্ধি</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">মনঃ+কষ্ট= মনঃকষ্ট</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">মনঃ+পূত= মনঃপূত</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">যশঃ+প্রার্থী= যশঃপ্রার্থী</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">শিরঃ+পীড়া= শিরঃপীড়া</span></div><div><span class="fs16lh1-5 cf1 ff1">৬. 'মনমোহন' এই বানান অবাঙালি নামে দেখা গেলেও বাংলা বিশেষণ ও নামশব্দ হিসেবে তৎসম মনোমোহন-ই গ্রহণযোগ্য।</span></div><div></div></div>]]></description>
			<pubDate>Sun, 04 Apr 2021 14:29:00 GMT</pubDate>
			<enclosure url="http://elearninginfo.in/blog/files/Doc1_001_thumb.png" length="13318898" type="image/png" />
			<link>http://elearninginfo.in/blog/?-----------</link>
			<guid isPermaLink="false">http://elearninginfo.in/blog/rss/000000007</guid>
		</item>
	</channel>
</rss>